ঢাকার গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের ছাত্র আয়াজ হক হত্যা মামলায় দুই আসামির সাজা কমিয়েছেন হাইকোর্ট। এর মধ্যে ইনজামামুন ইসলাম ওরফে জিসানকে আমৃত্যু সশ্রম কারাদণ্ড থেকে ১২ বছর এবং তৌহিদুল ইসলামকে যাবজ্জীবন থেকে ১০ বছর করা হয়েছে। আজ রোববার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের বেঞ্চ এ রায় দেন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের করা আপিলের শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজ ১৬ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছিল।
আদালতে জিসানের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদার। রায়ের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আজকের পত্রিকাকে বলেন, দুই আসামি আবেদন করেছিলেন। তাদের দুজনের সাজা কমেছে। বাকিরা আপিল করেনি। আমরা সাজা কমানোর বিরুদ্ধে আপিল করব।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৯ জুন ঢাকা সিটি কলেজের প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও খরচ বাবদ টাকা তোলা নিয়ে আয়াজের বড় ভাই আশদিন হকের সঙ্গে আসামিদের কথা-কাটাকাটি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই দিন বিকেলে জিগাতলা যাত্রী ছাউনির কাছে আয়াজকে একা পেয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে আসামিরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই ঘটনায় নিহতের বাবা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শহীদুল হক মামলা করেন।
বিচার শেষে ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর আদালত ইনজামামুন ইসলাম ওরফে জিসানকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। এ ছাড়া তৌহিদুল ইসলাম, মশিউর রহমান আরাফ, তৌহিদুল ইসলাম শুভ, আবু সালেহ মো. নাসিম ও আরিফ হোসেন রিগ্যানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। রায়ের বিরুদ্ধে জিসান ও শুভ হাইকোর্টে আপিল করেন। দণ্ডিতদের মধ্যে জিসান কারাগারে, শুভ জামিনে আর বাকি আসামিরা পলাতক রয়েছেন।