ঢাকার নবাবগঞ্জের আগলা তীর্থস্নান ঘাটের ইছামতি নদীতে সনাতন ধর্মীয় আচার বারুণী স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ভোর থেকে ‘মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথি নক্ষত্রযোগে’ আগলা তীর্থস্নান ঘাটে দূরদূরান্ত থেকে পুণ্যার্থীদের আগমন ঘটে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভক্ত-পুণ্যার্থীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায় ঘাট এলাকা।
সনাতন ধর্মমতে, পাপ মোচনের আশায় মন্ত্র পাঠ করে নদীতে স্নান করতে সমবেত হন পুণ্যার্থীরা। পরে ঘাটে বসে থাকা সাধু-বৈষ্ণবদের অর্থ ও খাদ্য দান করা হয়। স্নান উপলক্ষে ওই এলাকায় গ্রাম্য মেলা বসে।
কমিটির সদস্যরা জানান, মেলায় আগত সহস্রাধিক পুণ্যার্থীর সেবায় দই, চিড়া, মুড়ি, ছাতু ও গুড় দেওয়া হয়। ইতালিপ্রবাসী বিষ্ণুপদ সাহা, প্রদীপ সাহা, প্রিয়াঙ্কা সাহা আগত পুণ্যার্থীদের জন্য এই আয়োজন করেন।
আয়োজক কমিটির রতন কুমার সাহা, সুভাষ চন্দ্র শীল, রতন সাহা জানান, ৪০০ বছর আগে থেকে এই স্থানে বারুণী স্নানের আয়োজন হয়ে আসছে। এর জন্য এই ঘাটের নাম স্নানঘাট। ইছামতি নদীর মরণ অবস্থা হলেও এই রীতি থেমে থাকেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, এটি সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেও স্নান ও মেলার নিরাপত্তায় এলাকার সব ধর্ম-মতের মানুষ সমবেত হন। এটি আমাদের পুরোনো দিনের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
তা ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে নবাবগঞ্জের ইছামতি নদীর নতুন বান্দুরা ঘাট, কলাকোপা পোদ্দার বাজার ঘাট, বাগমারা বাজার ঘাট, বর্ধনপাড়া ঘাটে পুণ্যার্থীরা স্নান করেন বলে জানা যায়।