দুর্নীতির মামলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাবেক উপাচার্য ড. আব্দুস সাত্তারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছেন যশোরের একটি আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে এই পরোয়ানার আদেশ দেন যশোরের সিনিয়র স্পেশাল জজ (জেলা ও দায়রা জজ) আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরকারি সিরাজুল ইসলাম। গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত অন্য দুই আসামি হলেন যবিপ্রবির উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আব্দুর রউফ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য ড. কামাল উদ্দিন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের এক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাছাই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্বে থেকে ড. আব্দুস সাত্তার নিয়মবহির্ভূতভাবে আব্দুর রউফকে সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেন। যথাযথ যোগ্যতা না থাকায় পরবর্তীকালে তাঁকে সেকশন অফিসার (গ্রেড-১, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হয় এবং বিজ্ঞপ্তি ছাড়াই তাঁকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে আব্দুর রউফ পরে পদোন্নতি পেয়ে ২০২১ সালে উপপরিচালক পদে উন্নীত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, অবৈধ নিয়োগের মাধ্যমে তিনি ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত সরকারি বেতন-ভাতা বাবদ ৬১ লাখ ৩১ হাজার ৭৩২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২১ আগস্ট দুদকের যশোর কার্যালয়ের তৎকালীন উপপরিচালক মো. আল আমিন বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, যেখানে তিন আসামিকে পলাতক দেখানো হয়েছে। গতকাল আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পাশাপাশি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।