২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে সব হারানো শরণখোলার আল আমিন খান এখন জনপ্রতিনিধি। চলতি বছর ২০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে তিনি শরণখোলা উপজেলার সাউথখালি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। আজীবন এলাকাবাসীর জন্য কাজ করার ইচ্ছে তাঁর, তাঁকে প্রতিনিধি হিসেবে পেয়ে স্থানীয়রাও খুশি।
আল আমিনের প্রতিবেশী ইলিয়াস পহোলান বলেন, সিডরে এলাকার অনেক মানুষ মারা গেছে। এদের মধ্যে কারও মরদেহ পেয়েছি, কারও পাইনি। স্বজন হারানো সেই বেদনা আজও আমাদের কুরে কুরে খায়। আমাদের এই এলাকায় এমনও মানুষ রয়েছেন যে সিডরে আপন বলতে সবাইকে হারিয়েছে। নবনির্বাচিত ইউপি সদস্য আল আমিন খানও এমনই একজন। সিডরে সে তাঁর পরিবারের সাত সদস্যকে হারিয়েছে। মাত্র ১৭ বছর বয়স থেকে একাই বাবার ভিটায় থেকেছে; খেয়ে না খেয়ে দিন কেটেছে। এরপরও এলাকার মানুষ দুর্দিনে আল আমিনকে পাশে পাই। সে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় আমরা খুবই খুশি।
হানিফ ফকির নামের আরেকজন বলেন, পরিবারের সবাইকে হারিয়ে যে টিকে থাকতে পারে, এলাকার মানুষের পাশে থাকতে পারে সে নিশ্চয়ই আমাদেরও উপকারে আসবে। তাই আমরা আল আমিনকে ভোট দিয়েছি।
ষাটোর্ধ্ব নাছিমা বেগম বলেন, অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে আল আমিন। সে এখন এলাকার মেম্বর। আমরা চাই সিডরের পর থেকে সে যেমন আমাদের পাশে রয়েছে, ভবিষ্যতেও তেমন পাশে থাকুক।
আল আমিন আরও বলেন, ভয়ংকর সিডরে পরিবারের বেশির ভাগ স্বজনকে আমি হারিয়েছি। এই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে আর কাউকে হারাতে চাই না। এলাকার হতদরিদ্র মানুষের জন্য পাকা ঘর, সাইক্লোন শেল্টার, সুপেয় পানি ও পাকা রাস্তা করাই আমার একমাত্র স্বপ্ন। এ জন্য আমি উপজেলা প্রশাসন, সংসদ সদস্যের দুয়ারে দুয়ারে যাব। আমি চাই আমার এলাকার মানুষ একটু সুখে থাকুক। তাঁদের সুখেই আমার সুখ।
শরণখোলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন মুক্তা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিঃস্ব হওয়া আল আমিন অনেক কষ্টে বড় হয়েছে। সবাইকে হারিয়ে সে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছে। আল আমিন জনপ্রতিনিধি হওয়ায় আমরা তাঁকে সাধুবাদ জানাই। তাঁর এলাকার যেসব সমস্যা রয়েছে তা নিরসনের জন্য আমরা চেষ্টা করব।
প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই দিনে শরণখোলা উপজেলার উত্তর সাউথখালী গ্রামের আল আমিন খানের বাবা বাবা (আব্দুর রহমান), মা (সুপিয়া বেগম), ফুফু (হায়াতুননেছা) ফুফাতো বোন (হনুফা ও ফাতেমা), ভাগ্নে (আবু হানিফ) এবং নানী (নুর বানু) মারা যায়।