Ajker Patrika
হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

যশোরের সোহাগ হত্যা মামলায় রাজশাহীর ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

যশোরের সোহাগ হত্যা মামলায় রাজশাহীর ইউপি চেয়ারম্যানের ভাই গ্রেপ্তার

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার আড়শিংগাড়ী গ্রামের সোহাগ হোসেন (২২) হত্যা মামলায় রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ঝিকড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ভাই আসাদুল ইসলামকে (৪৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। র‍্যাবের একটি দল গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

ওই হত্যাকাণ্ডে ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামেরও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। মামলায় এক নম্বর আসামি হলেও তিনি এখনো গ্রেপ্তার হননি। এর মধ্যেই গত ৩০ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাগমারার যোগীপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের তৎকালীন ইনচার্জ নয়ন হোসেন রফিকুল ইসলামকে পাশে বসিয়ে ইফতার করেন। পুলিশ ফাঁড়িতেই ওই ইফতারের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সোহাগ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসাদুল ইসলাম বাগমারা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হামিদ মরু হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি। উচ্চ আদালতে আপিল করে তিনি জামিনে আছেন। বাগমারা দুগুলপাড়া গ্রামের ওমর আলী হত্যা মামলারও আসামি তিনি। ২০০৬ সালে ওমর আলীকে হত্যা করা হয়েছিল। মামলাটি এখন বিচারাধীন। এ ছাড়া মারামারি-চাঁদাবাজিসহ কয়েকটি মামলা আছে তাঁর বিরুদ্ধে।

র‍্যাব-৫-এর রাজশাহীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুনীম ফেরদৌস বলেন, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় র‍্যাব সদস্যরা আসাদুলকে গ্রেপ্তারের জন্য তাঁর বাড়ির সামনে যান। এ সময় আসাদুল বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভুট্টাখেত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে ধাওয়া করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতেই তাঁকে বাগমারা থানার পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত সোহাগ হোসেন ঢাকায় থাকতেন। সেখানে বাগমারার মরুগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মনাহার ইসলামের (২৬) সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। মনাহারের চাচা উপজেলা কৃষক লীগের সদস্য নজরুল ইসলামের সঙ্গে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নজরুল ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী এনামুল হক এবং আসাদুল দলীয় প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের পক্ষে কাজ করেন। ভোটে এনামুল পরাজিত হন।

এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি সকালে নজরুলের লিজ নেওয়া পুকুরপাড়ে নিজেদের সরিষা খেতে যান মনাহার। এ নিয়ে প্রতিপক্ষ আসাদুলের লোকজন মনাহারের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তারা মনাহারকে পিটিয়ে হাত ভেঙে দেয়।

বন্ধুর আহত হওয়ার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে সোহাগ তাঁর আরও দুই বন্ধুকে নিয়ে মনাহারকে দেখতে আসেন। এ সময় গ্রামে ‘ভাড়াটে সন্ত্রাসী’ আনা হয়েছে অভিযোগ তুলে আসাদের লোকজন ওই তিন তরুণের ওপর হামলা চালায়। এ সময় দুজন পালিয়ে প্রাণে বাঁচলেও মাঠের মধ্যে পিটিয়ে ও কুপিয়ে সোহাগকে হত্যা করা হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

এ ঘটনায় রাতেই নিহত সোহাগের চাচাতো ভাই সাইফুল ইসলাম সাগর বাগমারায় আসেন। সেদিন পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে তাঁকে দিয়ে একটি হত্যা মামলা করায়। ওই মামলায় আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ না করে জড়িত অনেককে বাঁচানোর চেষ্টার অভিযোগ তোলেন সোহাগের বাবা শরিফুল ইসলাম। পরে ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে হত্যা মামলা করার আরজি জমা দেন। আদালত মামলাটি আগের মামলার সঙ্গে তদন্ত করে একসঙ্গেই প্রতিবেদন দেওয়ার আদেশ দেন।

নিহত সোহাগের বাবা আদালতে হত্যা মামলার যে আরজি দেন তাতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে এক নম্বর আসামি করা হয়। দুই নম্বর আসামি করা হয় তাঁর ভাই আসাদুলকে। এই হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশ দুজনকে এবং র‍্যাব তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই পাঁচজনই সোহাগের বাবার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

ইউএনওর কক্ষে জামায়াত নেতাদের মারধর, বিএনপির ৪ নেতাকে শোকজ

বার কাউন্সিলের পরীক্ষার ফি কমানোর দাবি রাবি শিক্ষার্থীদের

পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হলো বিএনপি নেতার কৃষিযন্ত্র

প্রসবকালে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

ধামইরহাটে সরকারি জমির মাটি কাটায় জরিমানা

বগুড়ায় আ.লীগ নেতার বাড়িতে আগুন, নাশকতার অভিযোগ

রাজশাহীতে ভটভটি-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

৭ মাস পর কলেজছাত্র আসিফের লাশ পেল পরিবার

জয়পুরহাটে অটোরিকশা-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নিহত

আক্কেলপুরে ৩ কৃষকের খরের গাদায় আগুন দিল দুর্বৃত্তরা