হোম > সারা দেশ > রাজশাহী

রাজশাহী বিভাগ

জ্বালানি খাত জিম্মি করছেন আওয়ামী লীগের নেতারা

গনেশ দাস, বগুড়া 

ফাইল ছবি

রাজশাহী বিভাগে জ্বালানি পরিবহন এবং বিক্রি নিয়ন্ত্রণ এখনো আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে। নিজেদের স্বার্থে ব্যাঘাত ঘটলেই তাঁরা ধর্মঘটের ডাক দিয়ে জ্বালানি খাতকে জিম্মি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তা-ই নয়, গত ১৫ বছর তাঁরা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জমির ইজারামূল্য (মাশুল) পরিশোধ করেননি গায়ের জোরে। শুধু বগুড়া জেলাতেই ইজারামূল্য বাবদ সওজ বিভাগের পাওনা ২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।

জানা গেছে, পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান রতন। সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পরিচিতি না থাকলেও তিনি নওগাঁ-৬ আসনের আওয়ামী লীগদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাফিল আলমের আত্মীয়।

সওজ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান রতনের দুটি পেট্রলপাম্প ও একটি সিএনজি স্টেশনের কাছে সওজের বকেয়া ৩১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

আর সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল তিনটি পেট্রলপাম্পের মালিক। তাঁর দুটি পাম্পের ইজারামূল্য বকেয়া ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কে কাহালু উপজেলার দরগাহাট এলাকায় তাঁর মালিকানাধীন অনিকা পেট্রলপাম্প সওজ বিভাগের জমি ইজারা না নিয়েই গায়ের জোরে ব্যবহার করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এতে গত ১৫ বছরে সড়ক বিভাগের ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে আবদুল জলিল বলেন, কাহালুতে অনিকা পেট্রলপাম্পের নামে সড়ক বিভাগের ভূমি ইজারা নেওয়ার জন্য অনেক আগেই আবেদন করা হয়েছে।

সওজ বিভাগের এই বকেয়ার তালিকায় বিএনপির নেতার নামও রয়েছে। বগুড়া জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামের মালিকানাধীন বগুড়ার চারমাথা এলাকায় জোসনা ফিলিং স্টেশনের ইজারার বকেয়া রয়েছে ৩২ লাখ টাকা। তিনি সড়ক বিভাগের ২৭ শতাংশ জমি ইজারা নিয়ে ব্যবহার করছেন। ১৮ বছর ধরে তিনি সওজ বিভাগকে ইজারামূল্য পরিশোধ করেননি। তবে সাইফুলের দাবি, সড়ক বিভাগের কাছে ৩২ লাখ টাকা বকেয়ার বিষয়ে তাঁর কিছু জানা নেই। সড়ক বিভাগ এ বিষয়ে তাঁকে কোনো দিন নোটিশ করেনি।

সড়ক বিভাগের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলায় ২৭২টি পেট্রলপাম্পে জ্বালানি পরিবহন ও বিক্রি নিয়ন্ত্রণ করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। বগুড়া জেলায় মহাসড়কের পাশে ৫৭টি ডিজেল, পেট্রল ও সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। এগুলোর ৫৪টি সওজ বিভাগের ৪১০ দশমিক ৭৯ শতাংশ জমি ব্যবহার করে। আওয়ামী লীগ নেতাদের হাতে জ্বালানি পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ হওয়ার কারণে এসব বকেয়া ইজারামূল্য এত দিনেও আদায় করা সম্ভর হয়নি। বকেয়া আদায়ে চাপ দেওয়া হলে কৌশলে তাঁরা ধর্মঘটের ডাক দেন। সর্বশেষ গত বছরের ১৮ নভেম্বর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ইজারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সারা দেশের সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছিল, যেসব প্রতিষ্ঠান ইজারামূল্য বকেয়া ছাড়াও ইজারা শর্ত ভঙ্গ করেছে, তাদের ইজারা বাতিলসহ প্রতিষ্ঠানের সংযোগ সড়কবিচ্ছিন্ন করতে হবে। অবৈধভাবে সওজ বিভাগের ভূমি ব্যবহার ছাড়াও চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া প্রতিষ্ঠানকে সওজের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

ওই চিঠির আলোকে বগুড়ায় সড়ক বিভাগ পেট্রলপাম্প মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেনি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে ধর্মঘট ডেকে উল্টো সড়ক বিভাগকেই বেকায়দায় ফেলে দেন আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।

বগুড়া সওজ বিভাগ সূত্র জানায়, মহাসড়কের পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গত ২৪ জানুয়ারি সওজ বিভাগ সংবাদপত্রে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে। সেই অনুযায়ী ৪ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়। উচ্ছেদ অভিযানের শুরুতেই বাধার মুখে পড়ে সওজ বিভাগ। আদমদীঘি উপজেলায় পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের মালিকানাধীন অনিকা পেট্রলপাম্পের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে গেলে ঘটে বিপত্তি। স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিবাদে পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি পরদিন ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজশাহী বিভাগে ধর্মঘট আহ্বান করে। সঙ্গে যোগ দেয় পেট্রোলিয়াম ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর বিভাগীয় কমিটি। ফলে পুরো উত্তরাঞ্চলে জ্বালানি পরিবহন ও বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক ডাকা হলেও পেট্রলপাম্প অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সেখানে অনুপস্থিত থাকেন। বিকেলে আবারও বৈঠক ডাকা হলে সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল উপস্থিত হন। সভাপতি মিজানুর রহমান রতন অনুপস্থিত থাকেন। ওই দিনই ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

সওজ বিভাগের ইজারামূল্য বকেয়ার কথা স্বীকার করে পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মিজানুর রতন বলেন, ইজারামূল্য হঠাৎ করে কয়েক গুণ বাড়ানোর কারণে পাম্পমালিকেরা ইজারা মাশুল দেওয়া বন্ধ করেছেন। এ কারণে বকেয়ার পরিমাণ বেশি হয়েছে। তিনি বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ২০২২ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কয়েক গুণ বাড়িয়ে শতাংশপ্রতি বাৎসরিক ইজারামূল্য করা হয়েছে ১০ হাজার ৯০৮ টাকা, যা কোনো পাম্পমালিকের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল মনসুর আহম্মেদ বলেন, ‘যেসব পেট্রলপাম্প ইজারামূল্য বকেয়া রেখেছে, অবৈধ স্থাপনা করে ইজারা শর্ত ভঙ্গ করেছে, তাদের উচ্ছেদ করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। বগুড়ায় সেই উচ্ছেদ অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়। পাম্পমালিকেরা ধর্মঘট ডাকেন। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পরবর্তী নির্দেশনা পেলে আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।’

রাসিকের ৩ নম্বর ওয়ার্ড: হাইকোর্টের আদেশ না মেনে টিসিবির তালিকা প্রণয়ন

‘আমি পালাতে চাই না, দেশের মানুষের সঙ্গে থাকতে চাই’

রাসিকের ১২ নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র: বেতন কমে অর্ধেক, তবু মিলছে না

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন

রাবিতে জোহা দিবস পালিত, ‘জাতীয় শিক্ষক দিবস’ ঘোষণার দাবি

নারী শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগে রুয়েটের ৯ শিক্ষার্থী বহিষ্কার

এখন আরও ভালোভাবে রাজশাহীর জন্য কাজ করতে পারব: মিনু

রাজশাহীতে স্ত্রীসহ এএসপির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে হেরোইন রাখার দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মন্ত্রিত্বের আলোচনায় তাঁরা