আজ আবার অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়েছে ঢাকার বাতাস। গতকাল বৃহস্পতিবার দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় শীর্ষ ২০-এ না থাকলেও আজ শুক্রবার আবার শীর্ষ পাঁচে উঠে এসেছে রাজধানী। আজ সকাল ৮টা ৩০ মিনিটের রেকর্ড অনুযায়ী ঢাকার বায়ুমান ১৮৩, যা অস্বাস্থ্যকর বায়ুর নির্দেশক। অথচ গতকাল বায়ুমান ছিল ৯২, যা নির্দেশ করে সহনীয় পর্যায়ের বায়ুর মান।
গতকাল বৃহস্পতিবার দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ২৯তম।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা বাতাসের গুণমান সূচক (একিউআই) দিয়ে দূষণের মাত্রা নির্ধারণ করে নিয়মিত বায়ু পরিস্থিতি তুলে ধরে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউ-এয়ার। তাদের তালিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র বস্তুকণাই দূষণের প্রধান উৎস। বেশি মাত্রার দূষণ শ্বাসতন্ত্রের রোগ, হৃদ্রোগ এবং দীর্ঘ মেয়াদে ক্যানসারের মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বায়ুমান নির্ধারণকারী ওয়েবসাইট এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের তালিকায় আজ শুক্রবার ২৩০ পয়েন্ট নিয়ে বায়ুদূষণে শীর্ষে আছে মিসরের কায়রো, যা খুবই অস্বাস্থ্যকর বাতাসের নির্দেশক। ঢাকা ছাড়া শীর্ষ পাঁচে থাকা অন্য শহরগুলো যথাক্রমে—নেপালের কাঠমান্ডু (২১৯), ইরাকের বাগদাদ (২০১), থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই (১৭৯) ও কাতারের দোহা (১৬৬)।
গতকাল বৃহস্পতিবার, দূষিত বায়ুর শহরের তালিকায় বায়ুদূষণে শীর্ষ পাঁচে থাকা শহরগুলো হলো—ভারতের দিল্লি (৩৩০), নেপালের কাঠমান্ডু (২১৩), পাকিস্তানের লাহোর (১৮৪), মিসরের কায়রো (১৭১) ও সেনেগালের ডাকার (১৭০)।
গতকাল ৩৩০ মানের বিপর্যয়কর বাতাস নিয়ে শীর্ষে থাকলেও আজ শীর্ষ দশে নেই ভারতের দিল্লি।
বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী, বায়ুমান সূচক ৫০-এর নিচে থাকলে বিশুদ্ধ বাতাস ধরা হয়। ৫১-১০০ হলে তা সহনীয়। ১০১-১৫০ এর মধ্যে হলে সতর্কতামূলক বা সংবেদনশীল মানুষের (শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি) জন্য অস্বাস্থ্যকর। ১৫১-২০০ হলে সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং সূচক ২০১ থেকে ৩০০ হলে বাতাসকে খুব অস্বাস্থ্যকর বলা হয়। আর সূচক ৩০০ ছাড়ালে সেই বাতাস দুর্যোগপূর্ণ।
বায়ুদূষণজনিত স্বাস্থ্য সমস্যায় প্রতি বছর বহু মানুষ মারা যায়। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বায়ুদূষণ প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যুর কারণ বলে ২০২৩ সালের নভেম্বরে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত একটি সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, গৃহস্থালি ও পারিপার্শ্বিক বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাবে বছরে ৬৭ লাখ মানুষ মারা যায়।
দীর্ঘদিন ঢাকার বাতাস অতিমাত্রায় দূষিত হওয়ায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া সংবেদনশীল ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার অনুরোধও করা হয়েছে।
পাশাপাশি ইটভাটা, শিল্পকারখানার মালিক এবং সাধারণ মানুষকে কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা, নির্মাণস্থলে ছাউনি ও বেষ্টনী স্থাপন করা, নির্মাণসামগ্রী ঢেকে রাখা, নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ট্রাক বা লরি ঢেকে নেওয়া, নির্মাণস্থলের আশপাশে দিনে অন্তত দুবার পানি ছিটানো এবং পুরোনো ও ধোঁয়া তৈরি করা যানবাহন রাস্তায় বের না করতে বলা হয়েছে।