সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নতুন ধরনের আত্মঘাতী ড্রোন পর্যবেক্ষণ করেছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। তবে এগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করছে কোরিয়ার গণমাধ্যমগুলো। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) এ তথ্য জানিয়েছে।
কেসিএন প্রকাশিত একটি গোপনীয় ছবিতে দেখা যায়, কিম জং উন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি রানওয়ে থেকে ড্রোন পরীক্ষা পরিদর্শন করছেন। কেসিএনএ আরও জানায়, এই ড্রোনের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন কিম।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই প্রযুক্তির উন্নয়ন সম্ভবত রাশিয়ার সহায়তায় হয়েছে। কারণ সম্প্রতি কর্নেল ব্রুকস টেক পলিসি ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক এবং ড্রোন বিশেষজ্ঞ জেমস প্যাটন রজার্সও মনে করেন, এই আত্মঘাতী ড্রোন উত্তর কোরিয়া ও রাশিয়ার মধ্যে ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক উন্নয়নের ফল।
তিনি জানান, ‘এই ড্রোনের অস্তিত্ব প্রমাণ করে যে, উত্তর কোরিয়া তার সেনাবাহিনীর জন্য ভবিষ্যতে ড্রোনের ওপর নির্ভর করবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রশ্ন হচ্ছে, এসব অ্যালগরিদম কী যথেষ্ট শক্তিশালী, নিরাপদ এবং উন্নত, যাতে তারা কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল না করে।’
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, এই অভ্যন্তরীণ ডিভাইস ও উপাদানগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার সংযোগ থাকতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সেনাবাহিনীর প্রধান লি সেউং-জুন এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এই উপাদানগুলো রাশিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারে।’
এই ড্রোনের পাশাপাশি কিম উত্তর কোরিয়ায় প্রথমবারের মতো আগাম সতর্কতা বিমানও উন্মোচন করেছেন, যা একটি বাণিজ্যিক বিমানের মতো দেখতে হলেও যুদ্ধক্ষেত্রে রাডার ব্যবহার করে আকাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার এই বিমানের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে আরও সময় প্রয়োজন। গত বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের পাবলিক অ্যাফেয়ার্স ডিরেক্টর লি সুং-জুন বলেন, অভ্যন্তরীণ ডিভাইস ও যন্ত্রাংশগুলো তৈরিতে রাশিয়া সাহায্য করতে পারে।
কিম জং উন রাশিয়াকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগে অভিযুক্ত। তবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সহায়তা পেতে ভ্লাদিমির পুতিন তাকে মহাকাশ প্রযুক্তি দিতে পারে।
গত বছরের জুনে পুতিন ও কিম একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন। সেখানে তারা প্রতিশ্রুতি দেন যে, কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে ‘আগ্রাসন’ হলে তারা একে অপরকে সাহায্য করবে।
এ ছাড়া, গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, উত্তর কোরিয়া রাশিয়ায় আরও সৈন্য পাঠিয়েছে এবং অন্যদের পশ্চিমাঞ্চলীয় কুরস্ক অঞ্চলে পুনঃস্থাপন করেছে, যেখানে ইউক্রেন শক্তিশালী আক্রমণ চালিয়েছে।