জার্মানির সাম্প্রতিক নির্বাচনে বর্তমান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের দল সিডিইউ-সিএসইউর পরাজয় হয়েছে। পরাজয় হলেও অনেক সময় জোটে সরকার গঠনের সম্ভাবনা থাকে। তাদের সে সম্ভাবনাও কম। অন্যদিকে গ্রিন ও লিবারেল এফডিপি নিয়ে জোটে সরকার গঠনের কাজ অনেকটা গুছিয়ে এনেছে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসপিডি)।
ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি হওয়া সত্ত্বেও জার্মান অর্থনীতির কিছু গুরুতর দুর্বলতা রয়েছে, যেগুলো মোকাবিলায় নতুন সরকারকে মনোযোগ দিতে হবে বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। এসবের মধ্যে ডিজিটালাইজেশন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান চিপ স্বল্পতা এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা প্রধান বলে উল্লেখ করা হয়েছে রয়টার্সের এক বিশ্লেষণে।
মের্কেলের ১৬ বছরের শাসনামলে দেশটির অর্থনীতি টানা ভালো করলেও ডিজিটালাইজেশনে পিছিয়ে রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিল্পোন্নত দেশের সংগঠন জি২০ এর মধ্যে জার্মানির অবস্থান ১৮। দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা প্রদানের কাজ চলছে অত্যন্ত ধীর গতিতে। গ্রামাঞ্চলে ফাইবার অপটিক কেবল সংযোগ বিস্ময়কর রকমের কম। তা ছাড়া ৫জি নেটওয়ার্কে পিছিয়ে রয়েছে জার্মানি।
গাড়ি শিল্পকে জার্মান অর্থনীতির কলিজা বলা হয়। কিন্তু গাড়িসহ অন্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান চিপ স্বল্পতায় ভুগছে দেশটি। মিউনিখভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইফো ইনস্টিটিউটের তথ্য, সেপ্টেম্বরে জার্মানির ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ শিল্পকারখানা চিপসহ অন্য কাঁচামাল স্বল্পতার কথা জানিয়েছে। গাড়ি শিল্পে তা ৯৭ শতাংশ।
ইউরোপের অনেক দেশের মতো জার্মানিতে তরুণের অনুপাতে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৬ সালের মধ্যে দেশটির প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে যাবেন। এসব খালি স্থান পূরণের জন্য ইতিমধ্যে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে অবসরে যাওয়ার বসয় ৬৫ থেকে ৬৭ করা হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে তা ৬৮ করা হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে দেশটির অর্থনীতি বাড়ার গতি স্বাভাবিকের চেয়ে দশমিক ৯ শতাংশ কমতে পারে।