ঢাকা: ডেল্টা বা ভারতীয় ধরনটি প্রতিরোধে কম সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ প্রয়োজন। বিখ্যাত মেডিকেল সাময়িকী দ্য ল্যানসেটে প্রকাশিত একটি গবেষণায় এমনটি বলা হয়েছে।
গবেষণায় বলা হয়, ডেল্টা ধরনের বিরুদ্ধে কম কার্যকর যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজারের ভ্যাকসিন। যারা ভ্যাকসিনটির একটি ডোজ নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে ডেল্টা ধরনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো অ্যান্টিবডি কম তৈরি হয়েছে। আর দীর্ঘ সময় পর আরেকটি ডোজ নিলে এই অ্যান্টিবডি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, ফাইজারের এক ডোজ টিকা ৭৯ শতাংশ মানুষের মধ্যে সামান্য পরিমাণ করোনার আসল ধরন নিষ্ক্রিয়কারী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পেরেছে। ওই একই পরিমাণ ভ্যাকসিন ৫০ শতাংশ মানুষের মধ্যে সামান্য পরিমাণ আলফা বা যুক্তরাজ্য ধরন নিষ্ক্রিয়কারী অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে । এ ছাড়া ৩২ শতাংশ মানুষের মধ্যে সামান্য পরিমাণ ডেল্টা বা ভারতীয় ধরন নিষ্ক্রিয়কারী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পেরেছে ফাইজারের এক ডোজ টিকা। আর বেটা বা দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনের বিরুদ্ধে ২৫ শতাংশ মানুষের মধ্যে সামান্য পরিমাণ নিষ্ক্রিয়কারী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পেরেছে ফাইজারের এক ডোজ ভ্যাকসিন।
এ নিয়ে গবেষণা দলের সদস্য ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএলএইচ) হাসপাতালের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ এমা ওয়াল বলেন, আমাদের ফলাফল থেকে বোঝা যাচ্ছে খুব সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ দিতে হবে। পাশাপাশি যাদের নতুন ধরনগুলোর বিরুদ্ধে যথেষ্ট অ্যান্টিবডি তৈরি হয় না তাঁদেরকে বুস্টার ডোজ দিতে হবে।
ল্যানসেটে প্রকাশিত গবেষণাটিতে আরও বলা হচ্ছে, সাধারণ ধরনের চেয়ে ডেল্টা ধরনের বিরুদ্ধে ফাইজারের টিকা পাঁচগুণ কম অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে।