হোম > বিশ্ব > পাকিস্তান

গাজা ইস্যুতে কেএফসিতে হামলা করায় পাকিস্তানে ১৭৮ জনকে গ্রেপ্তার

আজকের পত্রিকা ডেস্ক­

পাকিস্তানের করাচিতে কেএফসির একটি শপের সামনে পুলিশের অবস্থান। ছবি: ইপিএ

গাজা সংকট ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে আমেরিকাভিত্তিক ফাস্টফুড চেইন কেএফসিতে একাধিক হামলার ঘটনায় ১৭০ জনের বেশি ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে—করাচি, লাহোর ও ইসলামাবাদসহ বিভিন্ন শহরে কেএফসির ওপর অন্তত ১১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে এসব হামলা চালায়। এখন পর্যন্ত ১৭৮ জনকে এই হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে।

লাহোর শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি কেএফসি আউটলেটে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে এক কর্মী নিহত হন। তবে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঘটনার সময় কোনো প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছিল না এবং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

লাহোর পুলিশ জানিয়েছে, শহরের ২৭টি কেএফসি আউটলেটের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইতিমধ্যে পাঁচটি হামলার প্রচেষ্টা রুখে দেওয়া হয়েছে।

লাহোর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফয়সাল কামরান বলেন, ‘এই হামলাগুলোর সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের ভূমিকা আমরা খতিয়ে দেখছি।’ তিনি জানান, তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান (টিএলপি)-এর এক সদস্যসহ মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এই বিক্ষোভগুলো দলটির আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছিল না বলেও জানান তিনি।

টিএলপি-এর মুখপাত্র রেহান মোহসিন খান বলেন, ‘আমরা মুসলিমদের ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়েছি। তবে কেএফসির সামনে প্রতিবাদের কোনো নির্দেশনা দিইনি। কেউ যদি দলীয় পরিচয়ে এমন কিছু করে থাকে, সেটি দলীয় নীতির বাইরে ব্যক্তিগত কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে।’

এদিকে কেএফসি এবং এর মূল কোম্পানি ইউএস-ভিত্তিক ইয়াম ব্র্যান্ডস এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। কেএফসি বহুদিন ধরেই পাকিস্তানে মার্কিন প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে এবং অতীতে বহুবার বিক্ষোভ ও হামলার লক্ষ্য হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েলের গাজা আক্রমণের প্রতিবাদে শুধু পাকিস্তানেই নয়, মুসলিম প্রধান বিভিন্ন দেশে পশ্চিমা ব্র্যান্ডগুলোর বিরুদ্ধে বয়কট ও প্রতিবাদ জোরদার হয়েছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল অভিযানের পর থেকে এই সংঘাত শুরু হয়, যেখানে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং ২৫১ জনকে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলের অভিযানে এখন পর্যন্ত ৫১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।

ইয়াম ব্র্যান্ডস জানিয়েছে, তাদের আরেক ব্র্যান্ড পিৎজা হাটও এই বয়কটের কারণে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের মুখে পড়েছে।

এদিকে, ইসরায়েল ও মার্কিন বিরোধী মনোভাবের কারণে পাকিস্তানে স্থানীয় কোমল পানীয় ব্র্যান্ডগুলো জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ব্র্যান্ডগুলো এড়িয়ে চলার প্রবণতা বেড়েছে। গ্লোবাল ডেটার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে কোকাকোলার বাজার অংশীদারত্ব ছিল ৬.৩ শতাংশ, যা ২০২৩ সালে কমে দাঁড়ায় ৫.৭ শতাংশে। পেপসিকোর শেয়ার ১০.৮ শতাংশ থেকে কমে হয়েছে ১০.৪ শতাংশ।

চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেয় এমন সব পণ্য ও ব্র্যান্ড বর্জনের আহ্বান জানান। তবে তাঁরা জনগণকে শান্তিপূর্ণ থাকার ও কোনো ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে না জড়ানোর অনুরোধ করেন।

করাচিতে বিস্ফোরণ, ভবন ধসে নিহত অন্তত ১৪

প্রায় নিভে গেছে ইমরান খানের ডান চোখ, মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট

১৯ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর পাকিস্তানে ফিরল ঘুড়ি উৎসব ‘বাসন্ত’

ইসলামাবাদ হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’ আটক, ভারত সংশ্লিষ্টতার দাবি পাকিস্তানের

তোশাখানা-২ মামলায় ইমরান খানের ১৭ বছরের কারাদণ্ড, ‘কম সাজা’ বলছেন আদালত

পাকিস্তানে শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণটি ছিল আত্মঘাতী হামলা, নিহত বেড়ে ৩১

ইসলামাবাদে জুমার নামাজের সময় শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ২৪

রুজভেল্ট হোটেল: নিউইয়র্কের কেন্দ্রে ১০০ কোটি ডলারের সম্পদ পাকিস্তানের হাতে এল কীভাবে

পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৪০ ঘণ্টায় নিহত ১৪৫

বেলুচিস্তানে একযোগে ১২ স্থানে সন্ত্রাসী হামলা, অভিযানে নিহত ৫৮