ফেসবুকে পরিচয় হওয়া বন্ধুকে বিয়ে করার স্বপ্ন নিয়ে অবৈধভাবে পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করেন ভারতীয় যুবক বাদল বাবু (৩০)। কিন্তু তাঁর বিয়ের স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বিয়ের পরিবর্তে তিনি এখন কারাগারে বন্দী। অন্যদিকে পাকিস্তানি ওই তরুণীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি বিয়ে করতে চান না।
উত্তর প্রদেশের আলীগড় জেলার বাসিন্দা বাদল বাবু গত সপ্তাহে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মান্ডি বাহাউদ্দিন জেলায় (লাহোর থেকে প্রায় ২৪০ কিলোমিটার দূরে) গ্রেপ্তার হন। তিনি অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন।
পাঞ্জাব পুলিশের কর্মকর্তা নাসির শাহ ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে জানান, বাবু ফেসবুকের মাধ্যমে সানা রানী নামের এক তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হন। তাঁরা আড়াই বছর ধরে ফেসবুকে যুক্ত আছেন। গত সপ্তাহে বাদল বাবু বিয়ের আশায় পাকিস্তানে অনুপ্রবেশ করে সানা রানীর গ্রামে যান। কিন্তু সানা রানী পুলিশকে জানান, তিনি বাবুকে বিয়ে করতে চান না।
নাসির শাহ বলেন, ‘তার (সানা রানী) বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কেবল বন্ধু। তিনি বাবুকে বিয়েতে আগ্রহী নন।’
গ্রেপ্তারের পর বাদল বাবু পুলিশকে তাঁর প্রেমের গল্প শোনান। তবে বৈধ নথি ছাড়া প্রবেশ করায় পাকিস্তানের ফরেন অ্যাক্টের ১৩ ও ১৪ ধারায় তাঁকে আটক করা হয়।
পরবর্তীকালে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে ১৪ দিনের জন্য বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ১০ জানুয়ারি।
তরুণী সানা রানী বাবুকে বিয়ে করতে চান না বলে পুলিশের কাছে দাবি করলেও এই বক্তব্য তিনি কোনো চাপের মুখে দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। পিটিআইকে পাকিস্তানি একটি সূত্র জানিয়েছে, গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা সানা ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন।
তবে এমন ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের জেরে ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত পেরোনোর একাধিক ঘটনা ঘটেছে।
গত বছর ভারতীয় নারী অঞ্জু পাকিস্তানে গিয়ে তাঁর প্রেমিক নসরুল্লাহর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। একই সময়ে, পাকিস্তানের সীমা হায়দার নামে এক নারী চার সন্তানকে নিয়ে নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন এবং পরে তাঁর প্রেমিককে বিয়ে করেন।
এর আগে, পাকিস্তানের ১৯ বছরের তরুণী ইকরা জিওয়ানি ভারতের ২৫ বছর বয়সী মুলায়ম সিং যাদবের সঙ্গে একটি অনলাইন গেমের মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন এবং পরে নেপালে গিয়ে তাঁরা বিয়ে করেন।