অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার হেরে গেলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। গণতন্ত্র শুধু হারাবে না, মানুষ তাঁর মৌলিক অধিকার হারিয়ে ফেলবেন। তাঁদের কণ্ঠ রুদ্ধ হবে।’ আজ বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মহানগরীর সিলভার ক্যাসেল মিলনায়তনে দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানবাধিকার ও পরিবেশের ওপর গুরুত্বসহ আইন প্রয়োগবিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গণির সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান।
বক্তৃতা করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রহমান, পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম, বিভাগীয় কমিশনার মোখতার আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি ড. আশরাফুর রহমান, জেলা প্রশাসক মুফিদুল আলম, পুলিশ সুপার কাজী আখতার-উল-আলম প্রমুখ।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমরা এসেছি শহীদ আবু সাঈদ, মুগ্ধদের রক্তের দায় থেকে দেশের মানুষকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র উপহার দিতে। একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে দিতে। যদি আমরা ফেল করি বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। বাংলাদেশ গণতন্ত্রই শুধু হারাবে না, মানুষ তাঁর মৌলিক অধিকার হারিয়ে ফেলবেন। তাঁদের কণ্ঠ রুদ্ধ হবে।’
বিচার বিভাগের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত ১৫ বছরে ৬০ লাখেরও বেশি মানুষকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় আসামি করা হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশ বাদী পুলিশ। অতীতে জুরিসপ্রুডেন্স লিখতে গিয়ে, রায় দিতে গিয়ে, জামিন দিতে গিয়ে যে তথ্য ফলো করতেন, সেটা হলো এফআইআরে নাম নেই, সুতরাং জামিন দেওয়া যায় না। অথচ নন-বেলিবল মামলায় জামিন দিয়েছেন। আপনাদের কাছে নিবেদন, আপনারা জুরিসপ্রুডেন্স রচনা করুন।’
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একজন আসামিকে ফরোয়ার্ড করার সময় তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উত্থাপন করুন। এফআইআরে নাম না থাকতে পারে; কিন্তু তাঁকে কী কারণে গ্রেপ্তার করলেন, তিনি কীভাবে অপরাধে অংশগ্রহণ করেছেন—এ কথাগুলো থাকলে বিচার বিভাগে জুরিসপ্রুডেন্সে অনেক সহজ হবে।’