সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে পুলিশের এক এসআইসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার গৌখালেপাড় গ্রামের মো. আলী আব্বাস। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আজ বৃহস্পতিবার সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানের কাছে অভিযোগ দেন ব্যবসায়ী ও গণ–অভ্যুত্থানের সক্রিয় কর্মী দাবি করা আব্বাস।
অভিযোগে আলী আব্বাস উল্লেখ করেন, কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন দীর্ঘদিন ধরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নাম ব্যবহার করে নিজেকে থানার ‘লাইনম্যান’ পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছেন। লামনীগাঁও, গুচ্ছগ্রাম ও কাঁঠালবাড়ী এলাকায় প্রতিদিন বোমা মেশিনের মাধ্যমে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হয়। এসব অবৈধ মেশিনের মালিকদের কাছ থেকে প্রতিদিন ৪ হাজার টাকা ‘থানা লাইন’ বাবদ আদায় করেন এসআই মামুন।
অভিযোগে আব্বাস আরও বলেন, এসআই মামুনের প্রত্যক্ষ মদদে তাঁর নিজস্ব জমি থেকেও অবৈধভাবে বালু লুট করা হচ্ছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার বিষয়টি জানালে এসআই মামুন ও তাঁর সহযোগী চক্র ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এর জেরে ২৫ মার্চ রাত ৯টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার উত্তর বুড়দেও থানা সদর জামে মসজিদ মার্কেটের সামনে তাঁকে হয়রানি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসআই মামুন বিনা কারণে তাঁকে আটক করার চেষ্টা করেন। কী অভিযোগ আছে, জানতে চাইলেও পুলিশ কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি। এরপর এসআই মামুন সেখান থেকে সটকে পড়লেও সঙ্গে থাকা দুই কনস্টেবল মুরছালিন ও দীপঙ্কর আলী ভুক্তভোগী আব্বাসকে জোর করে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। ঘটনাস্থলে থাকা ডিএসবি সদস্য জহির ও আসিফ পুলিশের কাছে ওয়ারেন্টের কপি দেখতে চাইলে দুই কনস্টেবল গড়িমসি করতে থাকেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জনতার ক্ষোভের মুখে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে মো. আলী আব্বাস জানান, অভিযোগ দেওয়ার পরে আরেক ব্যক্তির মাধ্যমে এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন তাঁকে হুমকি দিয়েছেন। এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে আজ অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন দাবি করেন, ‘এটি মিথ্যা অভিযোগ। আমার বিষয়ে অভিযোগের কোনো প্রমাণ সে দেখাতে পারবে না। সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে বিধায় আমিও বলেছি দেখি সে কী করতে পারে। এমনি অভিযোগ হলে আমিও দেখে নেব।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজায়ের আল মাহমুদ আদনান বলেন, ‘আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে জানতে সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে বারবার কল দিলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।