Ajker Patrika
হোম > অর্থনীতি

এ বছর চাপে থাকলেও আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়বে, কমবে মূল্যস্ফীতিও: বিশ্বব্যাংক

আজকের পত্রিকা ডেস্ক

এ বছর চাপে থাকলেও আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়বে, কমবে মূল্যস্ফীতিও: বিশ্বব্যাংক

দেশের অর্থনীতি আরও এক বছর চাপে থাকবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার কমে ৪ শতাংশ হবে। তবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সেটি বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

এ ছাড়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ২০২৪–২৫ অর্থবছর শেষে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসবে। ফলে বাংলাদেশের মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্বব্যাংকের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনে ওয়াশিংটন থেকে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র ইকোনমিস্ট ধ্রুব শর্মা, ইকোনমিস্ট নাজমুস খান এবং বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র যোগাযোগ কর্মকর্তা মেহেরিন এ মাহবুব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এই মুহূর্তে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বহিঃখাতের চাপ, আর্থিক খাতের দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা। এসব কারণে প্রবৃদ্ধি খুব বেশি বাড়বে না। বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। কেননা এখনো ৮৪ দশমিক ৯ শতাংশ কর্মসংস্থান অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে। এটি অত্যন্ত উচ্চ হার। যেখানে ২০১৬ সাল থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে কর্মসংস্থান কমেছে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ হারে।

প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়ে ৩ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৫ দশমিক ২ শতাংশের মধ্যে থাকবে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, মধ্যবর্তী হার হবে ৪ শতাংশ।

এর আগে গত এপ্রিলে চলতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য ৫ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল বিশ্বব্যাংক। যদিও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। তবে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসের হিসাবে সরকারি লক্ষ্যের চেয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম হবে প্রবৃদ্ধি।

কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, দেশে কর্মের বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে গরমিল রয়েছে। সেটি একটি বড় সমস্যা। এ ক্ষেত্রে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান বাড়াতে হবে। দক্ষতার সঙ্গে বাংলাদেশের কারিগরি শিক্ষার অমিল রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান বাড়াতে এসব বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায়ের পরিস্থিতি খারাপ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারেনি। অথচ প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে। বিশেষ করে শিক্ষিত ও শহুরে বেকার বৃদ্ধি পাওয়াটা অন্যতম চ্যালেঞ্জ।

তিনি আরও বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি বাংলাদেশের জন্য অন্যতম চ্যালেঞ্জ। নানা উদ্যোগ নিয়েও এটি কমানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি, যা সাধারণ মানুষের জীবনমানকে নিচে নামাচ্ছে। পাশাপাশি বৈষম্যও বাড়ছে। বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে বিভিন্ন সংস্কার দ্রুত করতে হবে।

রপ্তানি আয়-রেমিট্যান্সে আঘাত আসতে পারে

কিছু সুবিধা নেওয়ার পরিস্থিতিও আছে

ট্রাম্পের শুল্কে পোশাক খাতে শঙ্কা

মার্কিন শুল্কে দেশে দেশে ক্ষোভ

ট্রাম্পের ঘোষণায় পতনের মুখে মার্কিন ক্রিপ্টো শেয়ার

ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় ধস

ট্যারিফ নির্ধারণে ট্রাম্পের গাণিতিক সূত্রের ব্যাখ্যা, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশের শুল্ক বেশির কারণ

ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে হুমকির মুখে ৩২০০ কোটি ডলারের ভারতীয় গয়না শিল্প

যে কারণে ট্রাম্পের নতুন শুল্কের তালিকায় নেই তেল–গ্যাস

মার্কিন পণ্যে কেমন শুল্ক নেয় বাংলাদেশ