শক্তিশালী ভূমিকম্পে মিয়ানমারের নেপিডো বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ভেঙে সেখানে থাকা কর্মকর্তাদের সবাই নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বৌদ্ধ মঠের অবকাঠামো ধসে শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
আজ শুক্রবার মিয়ানমারের সামরিক সরকার সূত্রের বরাত দিয়ে বার্মিজ ভাষার সংবাদমাধ্যম ওয়াইকেটি নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। তবে ওই সময় টাওয়ারে কতজন ছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যমটি।
এদিকে বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের কয়েক মিনিটের মধ্যেই মিয়ানমারে দ্বিতীয় দফায় বড় ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ (ইউএসজিএস) অনুসারে, মিয়ানমারে প্রথম ভূমিকম্প আঘাত হানার মাত্র ১২ মিনিটের মধ্যে আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। রেকর্ড অনুসারে, দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪, আগেরটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৭ মাত্রার। ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল সাগাইংয়ের ১৮ কিলোমিটার দক্ষিণে।
এদিকে দেশজুড়ে ছয়টি অঞ্চলে জরুরি অবস্থা জারি করেছে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। অঞ্চলগুলো হলো—সাগাইং, মান্দালে, মাগওয়ে, বাগো, পূর্ব শান রাজ্য এবং নেপিডো।
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। সেখানে একটি নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ধসে অন্তত ৪৩ জন নিখোঁজ হয়েছে। ধসে পড়েছে আরও বেশ কয়েকটি ভবন।
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যমটি বলছে, নেপিডো শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ায় এখনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাচ্ছে না। বহু রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।
মিয়ানমারের পেগু অঞ্চলের টাউংগু শহরে একটি বৌদ্ধ মঠ ধসে পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম ওয়াইকেটি নিউজের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে চলমান সংঘাত পরিস্থিতির কারণে ওই মঠটিকে আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করা হতো। বেশ কয়েকজন বাস্তুচ্যুত মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। একে তো পুরোনো মঠ, তার ওপর শক্তিশালী ভূমিকম্প—আর এতেই ঘটেছে হতাহতের ঘটনা।
স্থানীয়রা বলছেন, নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে বলেও জানা গেছে। এরই মধ্যে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়েছে। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে মিয়ানমারে অনুভূত হয় ভূমিকম্প। মিয়ানমারের সাংবাদিকদের পরিচালিত থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর খবরে বলা হয়েছে, রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের সময় মান্ডালায়, নেপিডো ও অন্যান্য এলাকার বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়ে। এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল সাগাইং শহরের কাছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, উৎপত্তিস্থলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৭। মিয়ানমারের সাগাইং থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে ছিল এর উৎপত্তিস্থল। গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। আর দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪।