বরগুনার বেতাগীতে জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দের চাল বিতরণ না করে অন্য ইউনিয়নে মজুদ করেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে সরকারি বরাদ্দের ১০০ বস্তা চাল জব্দ করে প্রশাসন। গতকাল রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কবির হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে চালগুলো জব্দ করা হয়। চালগুলো উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ ছিল। চাল জব্দের পর ঘটনা তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আজ সোমবার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমাপ্তি সাহাকে প্রধান করে ৩ সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিএম ওলিউল ইসলাম এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ট্যাগ অফিসার মো. সহিদুল ইসলাম। তদন্ত কমিটিকে ২ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বেতাগী উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জাটকা ধরা বন্ধে সরকার দেশের উপকূলীয় এলাকার নদ-নদীতে ছোট ফাঁসের জাল দিয়ে মাছ ধরার ওপর ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এ সময়ে আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারি খাদ্যসহায়তা হিসেবে প্রতি মাসে প্রত্যেক জেলেকে ৪০ কেজি ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়। সে অনুসারে মার্চ মাসে মোকামিয়া ইউনিয়নে ৪৫০ জন জেলের জন্য ১৬ টন ৮০ কেজি খাদ্য সহায়তার চাল বারদ্দ দেওয়া হয়। এসব চালের একটি অংশই পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোকামিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মোকামিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গাজী জালাল আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ওই চাল ইউনিয়ন পরিষদের রাখতে গেলে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ লাগত। জনগণের কথা বিবেচনা করে এই চাল এখানে রাখা হয়েছে। সকলের সুযোগ সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমি চেয়ারম্যান হিসেবে এই চাল এখানে রাখতে বলেছি।’
বেতাগী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সমাপ্তি সাহা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মোকামিয়া ইউনিয়নের জেলেদের জন্য সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির চাল বিতরণ না করে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের একটি ঘরে মজুদ রাখা হয়েছে, এমন খবর পেয়ে গতকাল রোববার রাতে সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কবির হাওলাদারের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখান থেকে ভিজিএফ কর্মসূচির ১০০ বস্তা চাল জব্দ করা হয়। জব্দকৃত চাল ওই রাতেই বেতাগী থানায় জমা রাখার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’
বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুহৃদ সালেহীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারি, জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল একটি বাড়িতে মজুদ করে রাখা হয়েছে। ওই চাল উদ্ধারের জন্য মৎস্য কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। চালগুলো কী কারণে ওখানে রাখা হয়েছে তা তদন্তে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের দুই দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’