মুক্তিপণ ১৫ লাখ টাকা না পেয়ে তানজিলা নামে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী এক কিশোরীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়েছে। অপহরণের ঘটনার দুদিন পর বরগুনার আমতলী উপজেলার পুজাখোলা গ্রামের খালের চরে হোগলপাতার খেত থেকে তানজিলার হাত-পা বাঁধা ও গলায় স্কার্ফ প্যাঁচানো মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে।
আজ বুধবার দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তানিজলার বাবার নাম তোফাজ্জেল খান। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তানজিলার চাচাতো ভাই হৃদয় খানকে (১৮) পুলিশ আটক করেছে।
আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ‘মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত হৃদয় খানকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’
জানা গেছে, উপজেলার পুঁজাখোলা গ্রামের তোফাজ্জেল খানের কন্যা তানজিলা গত সোমবার সকালে বাড়ির সামনে বের হয়। এ সময় তানজিলাকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওইদিন রাতে হৃদয় খানের (১৮) মোবাইল থেকে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। বাবা তোফাজ্জেল খানের মুক্তিপণ দিতে বিলম্ব হয়। কিন্তু এরপর থেকে ওই মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার তানজিলার বাবা তোফাজ্জেল খান আমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ হৃদয় খানকে আটক করে। পরে তাঁর দেয়া তথ্যমতে অপহরণের দুই দিন পরে তানজিলার বাড়ির সামনে খালের চরে হোগলপাতার খেতের মধ্য থেকে আজ বুধবার দুপুরে তার হাত-পা বাঁধা ও গলায় স্কার্ফ প্যাঁচানো মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে।
আটক হৃদয় তানজিলার চাচাতো ভাই। হৃদয় খানের বাবার নাম শহীদুল খান। পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। খবর পেয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার আব্দুস ছালাম ও ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন, সোমবার সকালে তানজিলাকে বাড়ির সামনে থেকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। ওই দিন রাতে একটি মোবাইল থেকে তানজিলার বাবার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তাঁরা আরও বলেন, আজ বুধবার দুপুরে পুলিশ তানজিলার বাড়ির সামনে খালের চরে হোগলপাতার খেত থেকে হাত-পা বাঁধা ও গলায় স্কার্ফ প্যাঁচানো মরদেহ উদ্ধার করে।
তানজিলার বাবা তোফাজ্জেল খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘একটি মোবাইল ফোন থেকে আমার নিকট ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। আমি মুক্তিপণ দিতে বিলম্ব করায় আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’