চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও নিকটাত্মীয়দের হারিয়ে একা হয়ে যাওয়া গুরুতর আহত শিশু আরাধ্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার তার বাবা-মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। আরাধ্য জানে না তার সঙ্গে আর কোনো দিন দেখা হবে না বাবা-মায়ের। আরাধ্যর এখন একমাত্র ভরসা ও শেষ আশ্রয়স্থল বৃদ্ধ দাদা দুলাল বিশ্বাস।
গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান আরাধ্যর বাবা দিলীপ বিশ্বাস ও মা সাধনা বিশ্বাস।
বন্ধু ও নিকট আত্মীয়দের সঙ্গে মাইক্রোবাসে গতকাল ভোররাতে ঢাকা থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে যাওয়ার পথে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান দিলীপ, তাঁর স্ত্রী সাধনাসহ ১০ জন। গুরুতর আহত অবস্থায় বেঁচে আছে দিলীপের একমাত্র মেয়ে আরাধ্যা। আরাধ্যা এখন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আজ তাকে নেওয়া হয়েছে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ)।
দিলীপের চাচাতো ভাই পলাশ কুমার বলেন, ‘ভাই ও বৌদির মরদেহ গ্রামে এসে পৌঁছালে তাঁদের শেষবারের মতো একনজর দেখার জন্য এলাকাবাসী ভিড় জমায়। পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, বাবা–মায়ের শেষকৃত্য হলো, কিন্তু আরাধ্যা কিছুই জানে না। হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে মেয়েটি।
দিলীপের বাল্যবন্ধু কাজল বলেন, তাঁরা গতকাল সকালে জানতে পারেন সড়ক দুর্ঘটনায় দিলীপ ও তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। বেঁচে আছে মেয়ে আরাধ্যা। এ পরিবারে আরাধ্যার দায়িত্ব নেওয়ার মতো আর কেউ বেঁচে নেই। দিলীপের বাবা বয়স্ক ব্যক্তি। নিজেকে সামলাতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে।