বাংলাদেশের উপকূলের ৭৩ শতাংশ মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। সেখানকার ১৯ জেলার ৩ কোটি মানুষ পানযোগ্য পানি সংগ্রহ করতে পারে না। দেড় কোটি মানুষ ভূগর্ভস্থ লবণাক্ত পানি পানে বাধ্য হচ্ছে। লবণাক্ত পানি পানে উপকূলের নারীদের জরায়ু সংক্রমণ বেড়েছে।
আজ শনিবার বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে বাগেরহাটের মোংলায় খালি কলস হাতে নিয়ে মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। তাঁরা উপকূলীয় অঞ্চলকে পানি সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সবার জন্য সুপেয় পানি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
উপজেলার দক্ষিণ কাইনমারিতে পশুর নদের পাড়ে উপকূলীয় নারীদের অংশগ্রহণে এই মিছিল ও সমাবেশ হয়। কর্মসূচির আয়োজন করে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ ও পশুর রিভার ওয়াটারকিপার।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পশুর রিভার ওয়াটারকিপার নূর আলম শেখ। বক্তব্য দেন ধরার নেত্রী কমলা সরকার, সার্ভিস বাংলাদেশের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মিলন, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের হাছিব সরদার, পশুর রিভার ওয়াটারকিপার ভলান্টিয়ার চন্দ্রিকা মণ্ডল, রত্না শেখ, তন্বী মণ্ডল প্রমুখ।
সভাপতি নূর আলম বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার ও নিরাপদ পানির হুমকির বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আমরা লড়াই করছি পানীয়, মাছের বসবাসের ও গোসল করার উপযোগী পানির জন্য। পানির আরেক নাম জীবন। তাই জরুরি ভিত্তিতে উপকূলের সুপেয় পানির সংকটের সমাধান করতে হবে। পানি সংরক্ষণের অবকাঠামো নির্মাণ ও পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা করতে হবে।’
ধরার নেত্রী কমলা বলেন, মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়ে খাওয়ার পানি নারীকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। ফলে নষ্ট হচ্ছে তাঁদের শ্রমঘণ্টা। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমুদ্র থেকে ভূভাগের অনেক ভেতর পর্যন্ত লবণ পানি ঢুকে পড়েছে। লোকজনকে পানি ও খাবারের সঙ্গে তুলনামূলক বেশি পরিমাণে লবণ গ্রহণ করতে হচ্ছে। এতে নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে। লবণাক্ত এলাকায় গর্ভবতী মায়েদের প্রি-এক্লাম্পসিয়া (গর্ভধারণকালীন জটিলতা) ও উচ্চ রক্তচাপের হার বেড়েছে।
ভলান্টিয়ার রত্না বলেন, ‘উপকূলীয় সব মানুষের খাওয়ার পানির টেকসই সমাধান করতে হবে। মিঠাপানির উৎস ভরাট, দখল ও দূষণ বন্ধ করতে হবে। নিরাপদ পানির সর্বজনীন, ন্যায্যতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।’