ইউরোপে আবারও বাড়তে শুরু করেছে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস। গতকাল বুধবার করোনার সংক্রমণ ইউরোপের কিছু অংশে রেকর্ড ভেঙেছে। মহাদেশটি আবারও মহামারির কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠছে। এর ফলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা করোনা টিকার বুস্টার ডোজ আরও সম্প্রসারিত করার জন্য পরামর্শ দিচ্ছে।
প্রতিদিন স্লোভাকিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, নেদারল্যান্ডস এবং হাঙ্গেরিতে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ছে। এ ছাড়া ইউরোপে শীত বাড়ছে এবং সামনে বড়দিনের কারণে মানুষ বাড়ির ভেতরে জড়ো হচ্ছে। এর ফলে করোনা ছড়ানোর একটি উপযোগী পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। এতে করোনা সংক্রমণ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
গতকাল বুধবার স্লোভাকিয়ায় সর্বোচ্চ দৈনিক করোনা শনাক্ত হওয়ায় সরকার দুই সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছে।
ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল (ইসিডিসি) এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পাবলিক হেলথ এজেন্সি, শুধুমাত্র যারা দুর্বল এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের বুস্টার ডোজ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। কিন্তু তারা এখন ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য অগ্রাধিকারসহ, সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য করোনা টিকার বুস্টার ডোজ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।
গতকাল বুধবার ইসিডিসি বলেছে, ইসরাইল এবং যুক্তরাজ্য থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী দেখা গেছে, স্বল্প মেয়াদে সব বয়সীদের একটি বুস্টার ডোজ দেওয়ার ফলে সংক্রমণ এবং ঝুঁকি কমবে।
ইসিডিসির প্রধান আন্দ্রেয়া অ্যামন বলেছেন, বুস্টার ডোজের ফলে সংক্রমণের হার কমবে। এ ছাড়া এটি অতিরিক্ত হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যু কমাবে।
উল্লেখ্য, এরই মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশ বুস্টার ডোজের অনুমোদন দিয়েছে। সুইডেন ধীরে ধীরে সমস্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য করোনা টিকার বুস্টার ডোজ চালু করবে বলে জানিয়েছে সে দেশে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। বর্তমানে বুস্টার ডোজ ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের দেওয়া হয়েছে। এটি সব বয়সীদের দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্মকর্তারা।