আবরার আহমেদকে থার্ড ম্যান দিয়ে কাট করলেন লিটন দাস। সীমানার দড়ি স্পর্শ করতেই হেলমেটটা খুললেন লিটন। রাওয়ালপিন্ডি স্টেডিয়ামের ডাগআউট থেকে মুহুর্মুহু হাততালি দিতে থাকেন তাঁর সতীর্থরা। উপলক্ষ্যটা যে লিটনের চতুর্থ টেস্ট সেঞ্চুরির।
পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডিতে লিটন সেঞ্চুরি করেছেন বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে। ব্যাটিং করতে নেমেছেন দলের বিপদের মুহূর্তে। নিজেও ছক্কা মারতে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন। তবু দমে যাননি। ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে করলেন সেঞ্চুরি। ২৮ মাস পর ক্রিকেটে তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন। সবশেষ সেঞ্চুরি তিনি পেয়েছিলেন। মিরপুরে ২০২২ সালের মে মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এসেছিল লিটনের সেই সেঞ্চুরি।
প্রথম ইনিংসে বিনা উইকেটে ১০ রানে আজ তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। মুড়ি-মুড়কির মতো উইকেট হারাতে থাকা বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ১০.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ২৬ রান। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটিংয়ে নামেন লিটন। ব্যাটিংয়ে নেমে পরের ওভারেই দেখলেন সতীর্থ সাকিব আল হাসানের বিদায়।
সাকিবের বিদায়ে যখন ৬ উইকেটে যখন ২৬ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ, তখন লিটন ও মেহেদী হাসান মিরাজ দলের হাল ধরেন। সপ্তম উইকেট জুটিতে মিরাজ ও লিটন যোগ করেন ১৬৫ রান। প্রথাগত টেস্ট মেজাজে শুরু করলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হাত খুলে খেলতে থাকেন লিটন। বেশি আক্রমণাত্মক হতে গিয়েই যে বিপদ ডেকে আনেন। ৫০তম ওভারের পঞ্চম বলে খুররম শাহজাদকে পুল করে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে ছক্কা মারেন লিটন। ছক্কা মারতে গিয়ে মাংসপেশিতে টান খেয়ে লুটিয়ে পড়েন। সেবা-শুশ্রুষা নিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে নামেন।
মিরাজকে ফিরিয়ে ১৬৫ রানের জুটি ভেঙেছেন খুররম। ১২৪ বলে ৭৮ রানে করেছেন মিরাজ। তাতে খুররম টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবার ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন। পাকিস্তান পেসার ষষ্ঠ উইকেট নিয়েছেন তাসকিনকে এলবিডব্লুর ফাঁদে ফেলে। ১৯৩ রানে ৮ উইকেটে পরিণত হলে ব্যাটিংয়ে নামেন হাসান মাহমুদ। চা পানের বিরতির পর লিটনের ব্যাটিংয়ের ধরনও বদলে গেছে। দৌড়ে রান কম নিয়েছেন। এমনকি নিশ্চিত সিঙ্গেলও নেননি তিনি।
সেঞ্চুরির আগেই অবশ্য থামতে পারত লিটনের ইনিংস। ৬১তম ওভারের তৃতীয় বলে আবরার আহমেদের মাথার ওপর দিয়ে শট খেলতে যান লিটন। আবরার কট এন্ড বোল্ডের চেষ্টা করেও ধরতে পারেননি। লিটনের স্কোর তখন ১৫১ বলে ৯০ রান। জীবন পেয়ে একটু সতর্ক হয়ে যান লিটন। ১৭১ বলে তিনি পেয়েছেন টেস্ট ক্যারিয়ারের চতুর্থ সেঞ্চুরি।