গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর রাতে শ্মশানঘাটের মাটি কেটে বিক্রি করছিলেন এক বিএনপি নেতা। খবর পেয়ে ডাম্প ট্রাক, এক্সকাভেটরসহ নেতাকে আটক করেন হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। পরে তোপের মুখে মাটিকাটা অংশ আবার ভরাট করে দেন বিএনপির অন্য নেতা-কর্মীরা। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার কাওরাইদ শ্মশানঘাটে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত বিএনপির নেতা আব্দুল্লাহ্ ফকির উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বেলদিয়া গ্রামের মৃত জব্বার ফকিরের ছেলে। তিনি কাওরাইদ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
হিন্দু সম্প্রদায়ের সুদিব চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমাদের শ্মশানের পাশের মাটি কেটে নিলে শ্মশান বিলীন হয়ে নদীতে মিশে যাবে।’
স্থানীয় তমাল কান্তি দেবনাথ বলেন, ‘গভীর রাতে স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি, আমাদের শ্মশানের কাছ থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর কয়েকজনকে ফোন করে শ্মশানঘাটে ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি বিএনপির নেতা আব্দুল্লাহ্ ফকির দাঁড়িয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কেটে ডাম্প ট্রাকে ভর্তি করে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর আমরা প্রথমে বাধা দিলেও বিএনপির নেতা মাটিকাটা চালিয়ে যান। পরে কয়েক শ লোক জড়ো হয় শ্মশানঘাটে। তখন বিএনপির নেতাকে আটকে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।’
কনক কান্তি দেবনাথ নামে একজন জানান, বিএনপি নেতা এবং তাঁর ডাম্প ট্রাক ও এক্সকাভেটর আটক করার খবর পেয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এসে অভিযুক্ত নেতাকে নিয়ে যান।
কাওরাইদ শ্মশানঘাটের সভাপতি বাবুল শাহ্ বলেন, ‘আমাদের প্রতিবাদের মুখে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা শ্মশানঘাটে পুনরায় মাটি ভরাট করে দিয়েছেন। এমন কর্মকাণ্ডের কারণে নেতার বিরুদ্ধে সংগঠন ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে বিএনপি।’
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ্ ফকিরের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন নম্বরে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
কাওরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এমদাদ হোসেন মণ্ডল বলেন, শ্মশানঘাটের মাটি ভরাট করে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শ্রীপুর থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কামরুজ্জামান বলেন, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।