গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে স্যার না বলায় মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল রোববার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিক্ষার্থীদের করোনার টিকাদান কার্যক্রম চলে। সকালে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানাজ বেগম তাঁর অধীনস্থ বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিকা নেওয়া দেখতে যান।
এ সময় টিকা কার্যক্রমে একাধিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একই সঙ্গে টিকা নেওয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আসিফ ফেরদৌস বিরক্ত হন। তিনি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজসহ অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অপমান সহ্য করতে না পেরে ঘটনাস্থলে অচেতন হয়ে পড়েন। কিছুক্ষণ পর তিনি স্বাভাবিক হলে উপজেলা পরিষদ মাঠ এসে অঝোরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় পরিষদের অন্য কর্মকর্তাদের নজরে বিষয়টি আসলে তাঁরা ওই কর্মকর্তাকে নিজ দপ্তরে নিয়ে আসেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক নাম প্রকাশ না করে জানান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সামনে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করায় তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহানাজ বেগম বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসিফ ফেরদৌসকে স্যার না বলায় তিনি আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তবে পরে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। এ বিষয়ে আমার আর কোনো অভিযোগ নেই।’
এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আসিফ ফেরদৌস স্যার না বলায় লাঞ্ছিত করার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। এ বিষয়ে আপনাদের (সাংবাদিক) এত মাথাব্যথা কেন?’