নদীবেষ্টিত বরিশালের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যেতে এখনো যাতায়াতব্যবস্থা ফেরিনির্ভর। এ অঞ্চলের ১৫টি ফেরিঘাটে ঝকঝকে নতুন ফেরির পাশাপাশি পুরোনো ফেরিও রয়েছে। কিন্তু নতুন ফেরি মাসের পর মাস ফেলে রেখে পুরোনোগুলো দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে চলছে সেবা।
কোনো কোনো ঘাটে দিন পেরিয়ে সপ্তাহ গেলেও একবারের জন্য ফেরি চলে না। এতে ঘাটে ঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। যদিও ফেরি রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ বছরে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে ফেরি বিভাগের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। তবে বরিশাল ফেরি বিভাগ বিভিন্ন রুটে ফেরি না চলার বিষয়ে নানা অজুহাত জানিয়েছে।
নগরীর কীর্তনখোলা নদীর বেলতলা পয়েন্টের ফেরিটি গুরুত্বপূর্ণ। এখান থেকে কীর্তনখোলা পাড়ি দিয়ে অপর প্রান্ত চরমোনাই হয়ে মেহেন্দিগঞ্জে সড়কপথে যাতায়াতের জন্য কয়েক বছর আগে বেলতলায় ফেরিঘাট স্থান করা হয়। তবে এ ফেরিটি তেমন কোনো উপকারে আসছে না বলে এ রুটে যাতায়াতকারীদের অভিযোগ। ফেরি পরিচালনাকারীদের ইচ্ছেমাফিক ফেরি চালানো এবং নতুন একটি ফেরি প্রায় ৫ মাস ঘাটে বসিয়ে রেখে অনিয়মিতভাবে পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ একটি ফেরিতে যানবাহন পার করা হয়। নতুন ফেরি সংযোজন না হওয়ায় প্রতিদিন এই রুট দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে পার হয়ে থাকে মোটরসাইকেল, রিকশা, অটোরিকশা, পণ্যবাহী ছোট ভ্যান ও আলফা-মাহিন্দ্রা।
চরমোনাইয়ের বাসিন্দা রিকশাওয়ালা আ. জলিল বলেন, ‘ফেরি চলে না, তাই রিকশা বেলতলায় রেখে বাড়ি যেতে হয়।’
নগরে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিন উত্তাল নদীতে মোটরসাইকেল পারাপার ঝুঁকিপূর্ণ হয়। অথচ নতুন ফেরি পড়ে থাকছে মাসের পর মাস।’
বেলতলা ঘাটের ফেরিচালক মো. খোকন জানান, নতুন ফেরিটি চালু না হওয়ায় আগের ভাঙাচোরা ফেরিটিই ৪-৫ দিন পরপর দু-একবার চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ ফেরিতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শীত মৌসুমে নাব্যতা সংকটে এখন ফেরি চলাচল প্রায় বন্ধ থাকে।
বাকেরগঞ্জের কাটাদিয়া এবং নেহালগঞ্জ ফেরিঘাটেও অনিয়মিত ফেরি চলাচলে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। কাটাদিয়া ফেরির স্টাফ জাকির হোসেন বলেন, তাঁরা রিজার্ভ অনুযায়ী আপ-ডাউন ট্রিপ ৮০০ টাকায় সার্ভিস দেন। তিনি স্বীকার করেন ভাড়া বেশি, কিন্তু তাঁদেরও তো চলতে হয়। এ ঘাটে দুটি ফেরির মধ্যে নতুন একটি আপাতত চলে না। পুরোনোটায় রিজার্ভ পেলে সার্ভিস দেওয়া হয়।
ওই এলাকার প্রাথমিক শিক্ষক সালমান আজিম জানান, তাঁদের প্রত্যাশা অনুযায়ী এ রুটে ফেরি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাধারণের ভাগ্যে নিয়মিত ফেরিতে ওঠার সৌভাগ্য হয় না। নিয়মিত ফেরি চললে ছোট যান চলাচল সহজ হতো।
এ প্রসঙ্গে ফেরি বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘বেলতলার নতুন ফেরি চলছে না। পুরোনোটা সার্ভিসে আছে। কাটাদিয়া, মাছুয়া ও স্বরূপকাঠিতেও নতুন ফেরি আছে। এসব জায়গায় অনিয়মিত সার্ভিস থাকার কথা নয়। তবে ইজারাদারের মর্জি অনুযায়ী হয়তো ফেরি চলে।’