ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত কয়েক বছর আগে একবার সন্দীপ রায়ের বাড়ি গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, তাঁকে বলেকয়ে যদি একবার ফেলুদার চরিত্রটা নেওয়া যায়। বাবা সত্যজিৎ রায়ের পর তাঁর এই বিখ্যাত চরিত্র নিয়ে সন্দীপ রায়ও বেশ কিছু সিনেমা বানিয়েছেন। সেগুলোতে ফেলুদা হয়েছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী ও আবির চট্টোপাধ্যায়। আবির এখন আরেকটা গোয়েন্দা ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যোমকেশ করেও বেশ নাম করেছেন। ফলে তাঁকে আর ফেলুদা হিসেবে নেবেন না সন্দীপ। তাই ফেলুদা চরিত্রে নতুন কাউকে যে দরকার, সেটা বুঝেছিলেন ইন্দ্রনীল।
সেদিন সন্দীপ রায় কোনো পাকা কথা দেননি ইন্দ্রনীলকে; তবে এটা বলেছিলেন, যদি ভবিষ্যতে ফেলুদার গল্প নিয়ে সিনেমা করেন তখন অবশ্যই তাঁকে ডাকবেন। ২০১৫ সালের কথা সেটা। পরের বছর সব্যসাচীকে নিয়ে সন্দীপ রায় ‘ডাবল ফেলুদা’ করেছিলেন, এরপর আর সম্ভব হয়নি।
প্রায় ছয় বছর পর বড়দিনের আমেজের ভেতরে সন্দীপ রায় আবার হাজির করেছেন আরেকটা ফেলুদা ‘হত্যাপুরী’। ২৩ ডিসেম্বর মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। মানুষ দলেবলে হলে ছুটছে পুরীতে ফেলুদার নতুন রহস্যের অনুসন্ধান দেখার জন্য।
‘হত্যাপুরী’তে ফেলুদা হয়েছেন সেই ইন্দ্রনীলই, যিনি একদিন এ চরিত্রের অনুরোধ নিয়ে সন্দীপ রায়ের কাছে গিয়েছিলেন। তবে ইন্দ্রনীলকে ফেলুদা চরিত্রে নেওয়ার কারণে কিন্তু কম ঝক্কি পোহাতে হয়নি নির্মাতাকে। প্রথমে এ সিনেমা প্রযোজনা করতে চেয়েছিল এসভিএফ (শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস)। সন্দীপ যখন আবিরকে পাল্টে ইন্দ্রনীলকে নিলেন ফেলুদা হিসেবে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান পিছিয়ে গেল। তাদের মতো আরও অনেকের ধারণা ছিল, ইন্দ্রনীল প্রবাসী বাঙালি। বাংলা উচ্চারণটা অত ভালো না তাঁর। তাঁকে ফেলুদা হিসেবে নেবে না দর্শক। তাই এই চরিত্রে তাঁকে নেয়াটা ঝুঁকিপূর্ণ।