উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট বানানো নয়। উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাটেরও দরকার আছে, কিন্তু উন্নয়নের মূল্যায়ন যখন করব, ফ্রিডমের দিকটি বিবেচনা করতে হবে। অমর্ত্য সেন উন্নয়ন বলতে ফ্রিডমের উন্নয়ন বুঝিয়েছেন। তবে ফ্রিডম মানে স্বাধীনতা নয়, এই ফ্রিডম হলো চয়নের ক্ষমতা। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীতে লোকবক্তৃতায় এসব কথা বলেছেন ভারতীয় অধ্যাপক অচিন চক্রবর্তী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে ‘বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশন’ এই লোকবক্তৃতার আয়োজন করে। ‘সমৃদ্ধ ও নায্য সমাজের সন্ধানে অমর্ত্য সেন’ শীর্ষক ওই লোকবক্তৃতায় প্রধান বক্তা ছিলেন কলকাতার ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক অচিন চক্রবর্তী।
ভারতীয় এই গবেষক তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘অমর্ত্য সেনের নোবেল পুরস্কারের ক্ষেত্রে নোবেল কমিটি যে মূল বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন সেটি হলো ‘সোশ্যাল চয়েজ’। যাকে আমরা সামাজিক চয়েজতত্ত্ব বলি। এই তত্ত্বের মূল কথা হলো, ব্যক্তির পছন্দ সামগ্রিক বা সামাজিক পছন্দ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।’
অধ্যাপক অচিন আরও বলেন, `কোনো পারফেক্ট সমাজের ছবি তৈরি করা সম্ভব নয়। এটির দরকারও নেই। কেননা অন্যায়গুলো দূর করতে হলে আমাদের কোনো পারফেক্ট সমাজের ইকুয়েশন দিয়ে হয় না। তিনি (অমর্ত্য সেন) একটি তুলনামূলক দর্শনের প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছেন। সম্পূর্ণ ন্যায্য সমাজ করতে পারব না, সমাজে যে অন্যায্যতা রয়েছে সেটি যতটা কমানো যায়। তাহলে সমাজ তুলনামূলক ন্যায্য হবে।’
অমর্ত্য সেন বুনিয়াদি শিক্ষা একটি রাজনৈতিক ইস্যু বলেছেন বলেও জানান অধ্যাপক অচিন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, বুনিয়াদি শিক্ষার ব্যাপারটি কখনো রাজনৈতিকভাবে আসেনি। এটি রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে না ওঠার কারণে বিভিন্ন জায়গায় রাষ্ট্র নানা চাপে পড়ে কাজ করেছে কিন্তু মূলধারার রাজনীতি থেকে এই চাপটি কখনো আসেনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ‘অমর্ত্য সেনের জীবন ও কর্ম’ নিয়ে আলোচনা করেন বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ জাভেদ।
আলোচনায় জাভেদ বলেন, ‘অমর্ত্য সেনকে অর্থনীতিবিদ হিসেবে যতটা জানি, দার্শনিক হিসেবে আমরা ততটা জানি না। তাঁর যে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি, তার সঙ্গে আমাদের পরিচয় কম। প্রজন্মের তরুণরা অমর্ত্য সেনকে পাঠ করবে, নতুনভাবে পাঠ করবে।’