বালিয়াকান্দি (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে একটি মাদ্রাসায় ক্লাস চলাকালে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের পাটকিয়াবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় গত মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি। তবে, এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঘটনার পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান না করে বাইরে খোলা আকাশের নিচে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে।
জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে নির্মিত তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা পাটকিয়াবাড়ী দাখিল মাদ্রাসাটির একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহার হয়। বাকি দুই কক্ষে চলে পাঠদান। গত মঙ্গলবার অফিস কক্ষের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে। তবে আতঙ্কে বাকি দুই কক্ষেও পাঠদান বন্ধ রাখা হয়। ভবনটি পাঠদানের জন্য পুরোপুরি অনুপযোগী হয়ে গেছে বলে দাবি করছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
ভবনটির অধিকাংশ বিম ও পিলারে বড় আকারের ফাটল ধরেছে। বিম, পিলার ও ছাদের সুরকি-পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। এরপরও ঝুঁকি নিয়ে ভবনটিতে পাঠদান চলছিল।
ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক উত্তম কুমার গোস্বামী বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওই ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা। বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রকৌশলীও জানেন। তাঁরা পরিদর্শনও করে গেছেন। হঠাৎ গত মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আপাতত তাঁরা পাশের একটি বিদ্যালয় ও গাছতলায় ক্লাস নিচ্ছেন। তাঁদের একটি ঝুঁকিমুক্ত ভবন দরকার, যেখানে শিক্ষার্থীদের পাঠদান সম্ভব হবে।
পাটকিয়াবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. ফকরুল ইসলাম বলেন, মাদ্রাসায় ২৭৪ জন শিক্ষার্থী আছে। তাদের মধ্যে ষষ্ট ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলত ওই ভবনে। ওই ভবনের বিম ও ছাদের সুরকি ও পলেস্তারা খসে পড়ছে। ভয়ে শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় যেতে চাচ্ছে না। যারা আসছে, তাদের বাধ্য হয়ে পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টিনের শ্রেণিকক্ষে ও গাছতলায় ক্লাস নিচ্ছেন। ওই ভবনে পাঠদান চালানো সম্ভব না। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাঁরা এ বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী এজাজ কায়সার বলেন, বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যে জেনেছেন। আপাতত বিকল্প উপায়ে পাঠদানের জন্য বলা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।