গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাঠানটুলি এলাকার বাসা থেকে নিখোঁজ শিশু শাম্মি আক্তারকে (৫) কাশিয়ানী থেকে উদ্ধার করেছে থানা-পুলিশ। গত রোববার বিকেলে উপজেলার খায়েরহাটের শামীম মোল্যার বাড়ি থেকে তাঁর নিখোঁজ মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। শিশু শাম্মি ওই গ্রামের শামীম মোল্যা ও জাহানারা দম্পতির একমাত্র মেয়ে। এ ঘটনার পর থেকে বাবা শামীম মোল্যা পলাতক রয়েছেন।
এ ঘটনার আগে গত শুক্রবার নিখোঁজ শিশুর মা জাহানারা বেগম বাদী হয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরের দিন শিশুটির মামা রিয়াদ আলম নারায়ণগঞ্জ র্যাব-১১-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে, সাজানো ‘নিখোঁজ নাটক’ বাস্তব প্রমাণ করতে শামীম মোল্যা নিজের মেয়ের সন্ধান চেয়ে তাঁর ফেসবুক আইডিতে মেয়ের ছবি দিয়ে সন্ধান চেয়ে একটি পোস্ট দেন।
শিশুটির মা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শিশুটির বাবা শামীম মোল্যা এক বিধবা নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান। এ নিয়ে তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই দ্বন্দ্ব হয়। গত শুক্রবার সকালে তাঁদের ঝগড়া হয়। দুপুরে খাবার খেয়ে দুজনে শাম্মিকে নিয়ে ঘুমিয়ে যান।
হঠাৎ শাম্মি সেখান থেকে নিখোঁজ হয়। দুজনে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশপাশের ডোবায় অভিযান চালায়। এ ঘটনায় শাম্মির মা জাহানারা বাদী হয়ে ওই দিন নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি করেন।
এরপর শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই মধ্যে বাসা থেকে পালিয়ে যান শামীম মোল্যা ও তাঁর ভাই। পরে শাম্মির মামা রিয়াদ আলম শিশুটিকে উদ্ধারে র্যাব-১১-এর সাহায্য চান। র্যাব তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শামীমের অবস্থান জেনে শিশুটিকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করে।
এরই মধ্যে শামীমের এক আত্মীয় শাম্মির নানিকে ফোনে জানান, শাম্মি জীবিত আছে, এ নিয়ে আর বাড়াবাড়ি করার দরকার নেই।
শাম্মিকে কাশিয়ানীর খায়েরহাটে শামীমের বাড়িতে লুকিয়ে রাখার বিষয়টি শাম্মির মা ও মামা বাড়ির লোকজন জানতে পারেন। পরে তাঁরা বিষয়টি কাশিয়ানী থানা-পুলিশকে জানান। পুলিশ ওই বাড়ি থেকে শাম্মিকে উদ্ধার করে। পরে তাঁর মায়ের কাছে শাম্মিকে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে শাম্মিকে ফতুল্লা মডেল থানায় হাজির করা হয়।
কাশিয়ানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আশুতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে শিশুটির বাবা তাকে লুকিয়ে কাশিয়ানীর গ্রামের বাড়িতে পাঠান। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।