ক্রীড়াঙ্গনের অন্যান্য খেলায় এমনটা কম চোখে পড়লেও ফুটবলে দেখা যায় দলের কোনো খেলোয়াড় বড় কিছু অর্জন করলে তাঁকে সম্মান জানানো হয়। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ জয়ের পরেও এমনটি দেখা গেছে। ম্যানচেস্টার সিটি হুলিয়ান আলভারেজকে সম্মান দেখিয়েছে।
তেমনি আরও অনেক ক্লাবই বিশ্বজয়ী আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়দের সম্মান দেখিয়েছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল লিওনেল মেসির ক্ষেত্রে। যাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘ তিন যুগের খরা কেটেছে আর্জেন্টিনার, সেই তিনিই বিশ্বকাপ জয়ের পর পিএসজিতে সম্মান পাননি। লিগ ওয়ান চ্যাম্পিয়নরা সাতবারের ব্যালন ডি’অর বিজয়ীর জন্য এমন কোনো উদ্যোগই নেয়নি।
এ নিয়ে এত দিন কিছু না বললেও পিএসজি ছেড়ে যাওয়ার পর এবার মুখ খুলেছেন মেসি। তাঁর জাতীয় দলের সতীর্থরা নিজ নিজ ক্লাব থেকে সম্মান পেলেও কেন তিনি পাননি তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি। ইএসপিএনের মিগু গ্রানাদোসেককে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ইন্টার মায়ামির অধিনায়ক বলেছেন, ‘আর্জেন্টিনার স্কোয়াডের ২৫ জনের মধ্যে আমিই একমাত্র খেলোয়াড়, যে ক্লাব থেকে কোনো স্বীকৃতি পায়নি। অবশ্য এটা বোধগম্যই ছিল... আমাদের (আর্জেন্টিনা) কারণে তারা (ফ্রান্স) বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারেনি।’
এমন ঘটনার পরও মেসি প্যারিসে থাকার চিন্তা করেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের উত্তরে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেছেন, ‘এটা এমনই হয়েছে। যা আশা করেছিলাম তা হয়নি। তবে সব সময় বলি ঘটনা কোনো না কোনো কিছুর কারণে ঘটে। এমনকি সেখানে যদি ভালো না-ও থাকি, তবু এটি ঘটেছে। সেখানে থেকেই আমি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছি।’
২০২৪ কোপা আমেরিকা যে খেলবেন, এটা আগেই জানিয়েছিলেন মেসি। এবারও তাই জানিয়েছেন তিনি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। না বলার পেছনে বয়স ও পারফরম্যান্সের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। মেসি বলেছেন, ‘কোপা আমেরিকা নিয়ে চিন্তা করেছি। কোপা আমেরিকা শেষে আমরা দেখব। এটা নির্ভর করবে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করছি। দিন দিন ধরে দেখব কেমন লাগছে। বিশ্বকাপের এখনো তিন বছর বাকি রয়েছে। খেলার মান কমে যাচ্ছে কি না, সেদিকে তাকাই না। সব সময় থামি এবং খেলি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, আমার বয়স বাড়ছে। হাজারের মতো ম্যাচ খেলেছি এবং সময় কারও জন্য থেমে থাকছে না।’