ফেনীতে ২০১৪ সালে নিজদলীয় নেতা-কর্মীদের হাতে নিহত ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হকের নামে নির্মিত একরাম চত্বরের স্থলে ‘জুলাই ২৪ শহীদ চত্বর’ নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ফেনীর ১১ শহীদ স্মরণে ফেনী পৌরসভার অর্থায়নে স্মৃতিফলকটি নির্মাণ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে শহরের সদর হাসপাতাল মোড় এলাকায় সাবেক একরাম চত্বরের স্থানে ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই চত্বর উদ্বোধন করেন ফেনী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সাইফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, শহীদ পরিবারের সদস্য, ছাত্র ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
এ সময় জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে ফেনীর ১১ জন শহীদ হয়েছেন। তাঁদের স্মৃতি রক্ষার্থে ফেনী পৌরসভার অর্থায়নে সদর হাসপাতাল মোড়ে ‘জুলাই ২৪ শহীদ চত্বর’ নির্মাণ করা হয়েছে। এটি এলাকার ছাত্র-জনতার দীর্ঘদিনের দাবির ফল। ভবিষ্যতে এ স্মৃতিফলক বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগাবে।
ফেনী পৌর প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন বলেন, ‘শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ছাত্র-জনতার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এই চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে ফেনীতে শহীদ হওয়া সবার নামফলক রয়েছে। এটি আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা তুলে ধরবে।’
শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের বাবা নেছার আহমেদ বলেন, ‘বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে আমাদের সন্তানেরা জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করেছে। তাদের স্মৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আশা করছি, সারা দেশে শহীদদের স্মরণে এমন স্থাপনা তৈরি হবে।’
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা ও ফেনীর সন্তান আজিজুর রহমান রিজভী বলেন, স্বাধীনতা দিবসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে নতুন বাংলাদেশের জন্য প্রাণ বিলিয়ে দেওয়া শহীদদের স্মরণে এ চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে। জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থানে মহিপালে ছাত্র-জনতার ওপর আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের নির্বিচারে গুলিতে নয়জন প্রাণ হারান। ফেনী ও চাঁদপুরে আরও দুজন শহীদ হন। মোট ১১ শহীদের স্মৃতিকে ধরে রাখতে ‘জুলাই ২৪ শহীদ চত্বর’ নির্মাণ করা হয়েছে। চত্বরটির ডিজাইন ‘জেড’ আকৃতির, যা প্রজন্ম পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে ‘জেড জেনারেশন’-এর ভাবমূর্তি তুলে ধরে।