নারীদের প্রজননতন্ত্রের বিভিন্ন ক্যানসারের মধ্যে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার অন্যতম। এতে মৃত্যুহার খুব বেশি, ২৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। ডিম্বাশয়ের আবরণ, ডিম্বনালি ও পেরিটেনিয়ামের ক্যানসারকে একসঙ্গে ডিম্বাশয়ের ক্যানসার বলে। কারণ, উপসর্গ, রোগনির্ণয় এবং চিকিৎসাপদ্ধতিও তাদের একই রকম। এই ক্যানসার সাধারণত শেষ পর্যায়ে এসে ধরা পড়ে। এর আগে রোগটির উপসর্গগুলো নির্দিষ্ট থাকে না।
উপসর্গ
এই ক্যানসারের নির্দিষ্ট কোনো উপসর্গ থাকে না। তবে কিছু শারীরিক সমস্যাকে উপসর্গ হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। যেমন—
» ক্ষুধামান্দ্য
» অল্প খেলে পেট ভরা মনে হয়
» পেট বড় হয়ে যাওয়া
» পেটে ব্যথা অনুভব করা
» পেটে চাকা অনুভব করা
» ওজন কমে যাওয়া
» ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।
এসব উপসর্গ যদি মাসের ১২ দিনের বেশি হয় এবং এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।
ঝুঁকিতে কারা
» পারিবারিক ক্যানসারের ইতিহাস আছে যাদের
» যারা কখনো গর্ভধারণ করেনি
» যাদের ওজন বেশি
» যাদের মাসিক শুরু হয় অল্প বয়সে আর মেনোপজ হয় দেরিতে
» যারা মেনোপজের পর হরমোন থেরাপি নেয়
» বেশি বয়স্ক নারী ও অল্প বয়সের মেয়ে।
রোগ শনাক্তকরণ
মাত্র ২০ শতাংশ রোগী প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা সম্ভব। শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষার পাশাপাশি পেটের আলট্রাসনোগ্রাম, টিউমার মার্কার এবং আগে পেটের সিটি স্ক্যান ইত্যাদি করে রোগনির্ণয়
করা যায়।
চিকিৎসা
প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা গেলে অপারেশন করা সম্ভব।
অপারেশন ছাড়া কেমোথেরাপি ও টার্গেটেড থেরাপিও দেওয়া হয়। অ্যাডভান্স পর্যায়ে আগে কেমোথেরাপি দিয়ে পরে অপারেশন করা হয়। যেহেতু ডিম্বাশয়ের ক্যানসারের উপসর্গ কম ও নির্দিষ্ট এবং মৃত্যুহার বেশি, সে কারণে একটু উপসর্গ দেখা দিলেই দ্রুততম সময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
পরামর্শ দিয়েছেন: স্ত্রীরোগ, প্রসূতি এবং স্ত্রীরোগ ক্যানসার ও ল্যাপারোস্কোপিক সার্জন, কনসালট্যান্ট, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা