জামালপুরের ইসলামপুরে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্মার্ট কার্ড পাওয়া নিয়ে জটিলতার কারণে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে পারছে না ১৪ হাজারের বেশি পরিবার। নিম্ন আয়ের এসব মানুষ দুই মাস ধরে এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইসলামপুরের প্রায় ৪৩ হাজার পরিবার টিসিবির হাতে লেখা সাধারণ কার্ডের মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, চিনিসহ বিভিন্ন পণ্য কম দামে কিনতে পারছিল। এখন সরকার এ ক্ষেত্রে স্মার্ট কার্ড ইস্যু করছে। কিন্তু নানা জটিলতায় উপজেলার ১৪ হাজার ৩১৪টি স্মার্ট কার্ড এখনো এসে পৌঁছেনি।
ইসলামপুর সদর ইউনিয়নের অটোচালক হেলাল মিয়া বলেন, ‘একদিন রোজগার না করলে সংসারে খরচ জোটে না। আমি টিসিবির কার্ডধারী। টিসিবির পণ্য পাওয়ায় সংসারের খরচ কম হচ্ছিল। কিন্তু দুই মাস পণ্য পাইনি। ফলে সাংসারিক খরচ বেড়ে গেছে। রমজান মাসে অন্তত টিসিবির পণ্য পাব আশা ছিল, কিন্তু পাওয়া যায়নি।’
বর্তমানে টিসিবি থেকে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল ও চিনি বিক্রি করা হচ্ছে। কার্ডধারী প্রতিজন ১০০ টাকা লিটার দরে দুই লিটার তেল, ৬০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি মসুর ডাল, ৩০ টাকা কেজির দরে পাঁচ কেজি চাল ও ৭০ টাকা কেজির দরে এক কেজি চিনি কিনতে পারছেন। বর্তমান বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫৫-৫৮, মসুর ডাল ১১০-১২০ ও চিনি ১৩৫-১৪০ এবং প্রতি লিটার ভোজ্যতেল ১৭৫ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
অনেকের কার্ড না পাওয়া নিয়ে কথা হলে ইসলামপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ জানান, তাঁদের এখানে তথ্যগত ভুলভ্রান্তির কারণে অনেকের স্মার্ট কার্ড আসেনি।
নোয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রোমান হাসান বলেন, ‘কার্ড জটিলতায় ইউনিয়নের অনেক স্বল্প আয়ের মানুষ টিসিবির সুবিধা পাচ্ছেন না।’ অন্যদিকে বেলগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, ‘টিসিবির পণ্য না পেয়ে প্রতিদিনই মানুষের কথা শুনতে হচ্ছে। কার্ড জটিলতা নিরসন করা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, ‘যাঁরা এখনো কার্ড পাননি, তাঁদের কার্ড প্রক্রিয়াধীন। আমরা প্রিন্টেড কার্ড হাতে পেলেই বঞ্চিত পরিবারের হাতে পৌঁছে দেব। এ ছাড়া নতুন নির্দেশনা মোতাবেক যাঁরা এখনো টিসিবির ফ্যামিলি কার্ড সক্রিয় করেননি, তাঁদের স্ব-স্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা প্রশাসনিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। টিসিবি কার্ড সক্রিয় করার সময়সীমা ৩০ মার্চ পর্যন্ত রয়েছে।’