বাগেরহাট প্রতিনিধি
বাগেরহাটে করোনার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের ভিড় বাড়ছে। গতকাল শনিবার সকাল থেকে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল টিকাকেন্দ্রসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে সংশ্লিষ্টদের। শিক্ষার্থীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক আলাদা আলাদা দিন ও সময় নির্ধারণ করে দিলে ভিড় এড়ানো সম্ভব। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, দু-এক দিনের মধ্যে ভিড় কমে যাবে।
শনিবার সকালে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল টিকাকেন্দ্রের সামনে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে লম্বা সারিতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকা ও প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছেন তারা। সেখানে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই। তবে কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পরেও টিকা দিতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থী বিজয় দে বলেন, সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। দুপুর ১২টার দিকে টিকা দিতে পেরেছে। টিকা দেওয়ার পরে দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার ক্লান্তি ও বিরক্তি কেটে গেছে।
আরেক শিক্ষার্থী মুনিয়ারা আক্তার বলে, টিকাকেন্দ্রে অনেক ভিড়। প্রতিষ্ঠান অনুযায়ী টিকাদানের সময় বলে দেওয়া হলে ভিড় এড়ানো যেত।
এক শিক্ষার্থীর বাবা রুহুল আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের টিকাদানের বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ আরও বেশি সচেতন হতে পারত। তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় ও সমস্যা এড়ানো যেত।
টিকাকেন্দ্রে স্বেচ্ছাসেবকের দায়িত্বে থাকা বাগেরহাট রেড ক্রিসেন্টের যুব প্রধান শরিফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, শিক্ষার্থীরা নিয়ম মেনে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকা নিলেও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালীরা ঝামেলা করে। তাঁদের নিয়ম ভাঙার ইচ্ছা ও অযাচিত হস্তক্ষেপে বেশি দেরি হয়।
বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বখসি বলেন, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বাগেরহাট অনেক এগিয়ে। ইতিমধ্যে জেলার প্রায় ৬৩ ভাগ মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যাকে শতভাগে নিতে পারবেন বলে আসা করেন তিনি।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলায় ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী ১ লাখ ৫২ হাজার ৬৪৪ জন শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে। শতকরা হার হিসেবে এই সংখ্যাকে শতভাগ বলে দাবি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ ছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক ১০ লাখ ৯৬ হাজার ১১৭ জনকে প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার ৬২ দশমিক ৪৯ শতাংশ।