সংস্কারের দুই দিনের মাথায় আবারও ভেঙে গেছে নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা ইউনিয়নের টেংরিপাড়া এলাকায় নয়াইনদীর খালের ওপর নির্মিত বেইলি সেতুর পাটাতন। গতকাল রোববার সকালে পুনরায় ভেঙে যায় পাটাতন। এতে সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দুই পাশের যোগাযোগ। স্থবির হয়ে পড়েছে দুই পাশের ব্যবসা-বাণিজ্য।
টাঙ্গাইল-আরিচা আঞ্চলিক মহাসড়কের এ সেতুটি সম্প্রতি একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্ত হলেও করা হচ্ছে না স্থায়ী সংস্কার। এর আগে গত মঙ্গলবার সরিষাভর্তি একটি ট্রাক পারাপারের সময় পাটাতন ভেঙে সেতুর মাঝখানে আটকে যায়। সেই সময় দায়সারাভাবে সেতুটি মেরামত করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের গাফিলতির কারণে বারবার এমনটি ঘটছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচল করায় পাটাতন সরে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। সেতু মেরামতে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় এ সড়কে চলাচল করা চালক ও জনসাধারণকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।
ছমির আলী বলেন, ‘আমরা কষ্ট নিয়ে চলাচল করছি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আবারও সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ বারবার এটি মেরামত করে, কিন্তু স্থায়ী সংস্কার হচ্ছে না। এ ছাড়া অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহন চলাচল করায় সেতুটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী জানান, সেতুটি অনেক পুরোনো এবং অতিরিক্ত ওজনের যান চলাচল করায় এটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে টেকসই সংস্কারের। খুব ভারী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে সেতুর সংস্কার টেকসই হবে।
এদিকে, আঞ্চলিক এই মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের দৈর্ঘ্য ৪০ কিলোমিটার এবং মানিকগঞ্জ অংশের দৈর্ঘ্য ১৮ দশমিক ৫০ কিলোমিটারে উন্নীতকরণ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৩৫ দশমিক ১০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। ওই প্রকল্পের মূল কার্যক্রমের আওতায় প্রথমত, সড়কটি ১০ দশমিক ৩০ কিলোমিটারে উন্নীত করে পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু ও কালভার্টের পরিবর্তে নতুন করে ১৪টি সেতু ও ২১টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে এবং ৭টি কালভার্ট সম্প্রসারণ করা হবে। এ ছাড়া সড়কটিতে বিদ্যমান বাঁকগুলো সমীকরণের মাধ্যমে নিরাপত্তাঝুঁকি কমানো হবে।