নরসিংদীর রায়পুরায় বিভিন্ন গ্রামের নদী, নালা, খাল-বিল ও জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ম্যাজিক কারেন্ট জাল। নির্বিচারে শিকার করা হচ্ছে ছোট-বড় মাছ। এ জালের ব্যবহার বন্ধ না হলে দেশি প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
উপজেলা শ্রীনগর গ্রামের হারাধন, শৈলেশ, কামরুলসহ অনেকে বলেন, চায়না ম্যাজিক জাল মাছ ধরার এক ধরনের বিশেষ ফাঁদ। এটি লম্বাকৃতির। এই জাল পানিতে ফেলে রাখা হয়। এতে ছোট-বড় সব ধরনের মাছ আটকা পড়ে। এই জাল ভয়ংকর। দেশি মাছ সব শেষ করে ফেলা হচ্ছে। এই জালের ব্যবহার শিগগির বন্ধে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বাঁশগাড়ি এলাকার সেলিম মিয়া বলেন, ‘কারেন্ট জালের চেয়ে ম্যাজিক জাল দিয়ে খুব সহজেই প্রচুর মাছ ধরা যায়। বর্ষার শুরু থেকেই এ জাল দিয়ে আমি মাছ ধরছি। তাতে খুব লাভবান হচ্ছি। প্রতিটি ম্যাজিক জালের দাম পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা।’
দৌলতকান্দি গ্রামের খুরশিদ মিয়া বলেন, ‘মুক্ত জলাশয়ে এই জাল ব্যবহার করে পোনাসহ সব ধরনের মা মাছ শিকার করা হচ্ছে। এমনকি এতে মারা পড়ছে সাপ, ব্যাঙ, কুচিয়াসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। দেশি মাছ উজাড় হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন নজর দিচ্ছে না। এটি খুব দুঃখজনক।’
তুলাতলি মডেল হাইস্কুলে শিক্ষক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘এই জালের ব্যবহার দ্রুত বন্ধ না করলে প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত দেশি প্রজাতির পুঁটি, ট্যাংরা, কই, টাকি, শোল, শিং ও মাগুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বিপন্ন হবে বিভিন্ন জলজ প্রাণী। এতে বিনষ্ট হবে জীববৈচিত্র্য। তাই এখনই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাবিব ফরহাদ আলম বলেন, ‘ম্যাজিক জালের ব্যবহার বন্ধে মৎস্য অফিস এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অভিযান চালানো হবে।’