করোনাভাইরাসের টিকাদানকেন্দ্র এখন হাতের নাগালে। কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে এই টিকাদান কার্যক্রম চলছে। ফলে জনসাধারণের মধ্যে টিকা নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় দুটি ইউনিয়নের সাতটি কমিউনিটি ক্লিনিকে গতকাল রোববার থেকে দ্বিতীয় ধাপে করোনার টিকা দেওয়া শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত এই টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো ঘুরে দেখা গেছে, টিকা নিতে সকাল থেকে ভিড় করেছেন অসংখ্য নারী-পুরুষ। বাদ যাচ্ছেন না বয়স্করাও। লাঠিতে ভর দিয়ে কেউবা আবার নাতি-নাতনিকে সঙ্গে নিয়ে টিকা নিতে এসেছেন।
চণ্ডীপাশা ইউনিয়নের কোদালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকে নাতিকে নিয়ে লাঠিতে ভর দিয়ে টিকা নিতে এসেছেন মো. মফিজ উদ্দিন। তিনি কোদালিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বয়স ৮৪ বছর। বাড়ির পাশের কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকা দেওয়া হবে, জানতে পেরে নাতির মাধ্যমে কোদালিয়া বাজার থেকে অনলাইনে আবেদন করান। সেই আবেদনের কাগজ নিয়ে রোববার সকালে ক্লিনিকে আসেন তিনি। বয়স বিবেচনায় আগে টিকা নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
মফিজ উদ্দিনের মতো একই গ্রামের ৮৮ বছর বয়সী হাজেরা খাতুন, ৭৯ বছরের জুলেখা খাতুনও লাঠিতে ভর দিয়ে ওই ক্লিনিকে আসেন। টিকা নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন তাঁরা।
কোদালিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্বে থাকা সিএইচসিপি মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, টিকা নিতে লোকজনের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে। প্রথম দফায় সাত শতাধিক নারী-পুরুষ টিকা নিয়েছেন। রোববার ফের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল থেকে কয়েকশ লোক ভিড় করেছেন। বয়স বিবেচনা করে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের লাইন ছাড়াই টিকা গ্রহণের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শারমিন শাহনাজ বলেন, টিকাদানে বয়স্কদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের লাইনে দাঁড় না করিয়ে আলাদাভাবে টিকা দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া আছে।