বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার লোহালিয়া গ্রামে আড়িয়াল খাঁ নদে আকস্মিক ভাঙন শুরু হয়েছে। এদিকে সুগন্ধা নদীর ক্ষুদ্রকাঠির বটতলা নামক স্থানে ভাঙন শুরু হওয়ায় রহমতপুর-মীরগঞ্জ সড়ক হুমকিতে পড়েছে।
গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মীরগঞ্জ বাজারের দক্ষিণ পাশে ৩০ গজ দূরে আড়িয়াল খাঁ নদে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। নদীতে চলে গেছে সিংহেরকাঠি গ্রাম ও ছোট মীরগঞ্জ বাজারে যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। ভাঙতে শুরু করেছে বেশ কয়েকটি বসতভিটা। বসতভিটা ও দোকান সরিয়ে নিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিন হোসেন বলেন, গত শুক্রবার ভোরে পানির চাপে ফাটল শুরু হয়। রাস্তার প্রায় ২০০ মিটার দেবে গেছে।
এদিকে সুগন্ধার তীব্র ভাঙনে মীরগঞ্জ-রহমতপুর সড়কের বটতলা থেকে নদী রয়েছে মাত্র ২০ থেকে ২৫ ফুট দূরে। যেকোনো সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে ওই স্থানের প্রায় ৩০০ মিটার এলাকা।
ক্ষুদ্রকাঠির বটতলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রব বলেন, এই বর্ষায় তাঁর দুটি ঘর নদীতে চলে যাচ্ছে। সরিয়ে ফেলার জায়গাও নেই।
খলিলুর রহমান বলেন, সড়কটি বিলীন হলে দুর্ভোগের শেষ থাকবে না।
রহমতপুর-মীরগঞ্জ রাস্তায় মাহিন্দ্রা চালক শাজাহান হাওলাদার বলেন, এই পথ দিয়ে প্রতিদিন হিজলা ও মুলাদীর ৩০ থেকে ৪০টি পরিবহন রাজধানীতে যাতায়াত করে। তিন উপজেলার কয়েক হাজার যানবাহন চলাচল করে আসছে এই রাস্তা দিয়ে। কিন্তু সুগন্ধা নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
রহমতপুরের ইউপি চেয়ারম্যান মিলন মৃধা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড গত সপ্তাহে বটতলার ভাঙন এলাকা দেখে গেছে। সুগন্ধার ভাঙন ৩০ ফুটের মধ্যে চলে এসেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (বাবুগঞ্জ) মুশফিকুর রহমান শুভ বলেন, বাবুগঞ্জের রহমতপুর থেকে মীরগঞ্জ সড়কের ক্ষুদ্রকাঠির বটতলা এলাকার আড়াই শ মিটার নিয়ে জরুরি অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ শুরু হবে। মীরগঞ্জ বাজারসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদের লোহালিয়া গ্রামের ভাঙন রোধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।