Ajker Patrika
হোম > ছাপা সংস্করণ

পশ্চিমা মাদকের গন্তব্য এখন বাংলাদেশ

শাহরিয়ার হাসান, ঢাকা

পশ্চিমা মাদকের গন্তব্য এখন বাংলাদেশ

মাদক চোরাচালানের বেশ কয়েকটি নতুন রুট গড়ে উঠেছে। গত দুই বছরে এসব রুট ব্যবহার করে নতুন সাত ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করেছে। নতুন এই মাদকগুলো পশ্চিমা দেশগুলোয় মাদকসেবীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। এগুলোর ভয়াবহতাও বেশি। দেশে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা এসব মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছেন। বিষয়টি এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সরকারের উচ্চপর্যায়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। জাতীয় সংসদেও বিষয়টি উঠেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরে বছরে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকার মাদক বেচাকেনা হয়। কাজেই মাদক ব্যবসায়ীরা দেশকে সম্ভাব্য বড় বাজার হিসেবে দেখছেন। যেকোনো নতুন মাদক ছড়িয়ে একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন তাঁরা। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশনস) কুসুম দেওয়ান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘নতুন ধরনের মাদকগুলোর দাম অনেক বেশি হওয়ায় এখনো উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। আমরা এসব মাদক সরবরাহ শূন্যের কোঠায় আনার চেষ্টা করছি।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র বলছে, দেশে এ পর্যন্ত ২৫ ধরনের মাদক শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ইয়াবা, হেরোইন, কোকেন, আফিম, গাঁজা, ফেনসিডিল, মদ, বিয়ার ও ইনজেকটিং ড্রাগ অন্যতম। এই মাদকগুলো দেশের গ্রামেগঞ্জে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই নতুন নতুন মাদক আসছে। গত তিন বছরে তালিকায় যোগ হয়েছে ম্যাজিক মাশরুম, নিউ সাইকোঅ্যাকটিভ সাবস্টেনসেস (এনপিএস) বা খাট, ডায়মিথাইলট্রিপ্টামিন (ডিএমটি), লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইইথাইলামাইড (এলএসডি), ক্রিস্টাল মেথ বা আইস বা মেথামফেটামিন ও এস্কাফ সিরাপ। সর্বশেষ পোল্যান্ড থেকে আসা ডিওবি যোগ হয়েছে নতুন মাদকের তালিকায়।

ডিওবির পুরো নাম ডাইমিথোক্সিব্রোমোঅ্যামফিটামিন বা ব্রলঅ্যামফিটামাইল বা ব্রোমো-ডিএমএ। গত ২৪ নভেম্বর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে এলএসডি মাদক কেনার ফাঁদ পেতে দেশে ‘ডিওবি’ মাদকের সন্ধান পায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ৯০টি ‘ডিওবি’ স্ট্রিপ দেশে প্রবেশ করানো এ চক্রের সঙ্গে জড়িত দুজনকে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মেট্রোর সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান জানান, গত আগস্টে তাঁরা জানতে পারেন, বাংলাদেশে নতুন একধরনের মাদক আসছে। নতুন সেই মাদকের সন্ধান করতে গিয়ে একটি ‘কি ওয়ার্ড’ পান তাঁরা। এর সূত্র ধরে জানতে পারেন, নতুন এই মাদক দেশে ঢুকেছে এবং চক্রটিকে গ্রেপ্তার করার কৌশল হিসেবে একটি চক্রের সঙ্গে এলএসডি কিনতে ফাঁদ পাতেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২ কোটি ৮৪ লাখের মতো ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করেছে। তা ছাড়া, দেশে আইসের ১৯টি চালান থেকে ১৫ কেজি ও এলএসডির ১২টি চালান থেকে মোট ৬৭৫টি ব্লট উদ্ধার করা হয়েছে। এর বাইরে চলতি বছর এস্কাফ এসেছে ৯ লাখ ২ হাজার ৫৭৩টি বোতল।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মেখলা সরকার আজকের পত্রিকাকে বলেন, নতুন মাদকের সবই হ্যালুসিনেজিক। যত দ্রুত সম্ভব এলএসডি, ডিএমটি, ডিওবির গতিপ্রকৃতি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। না-হলে তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। অপরাধ বাড়বে। এসব মাদক দীর্ঘমেয়াদি সেবনে নিদ্রাহীনতা, স্মৃতিবিভ্রম, কিডনি ও হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যা এবং বিষণ্নতা, মানসিক বিকৃতিসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়।

কীভাবে ঢুকছে এসব ভয়ংকর মাদক
দেশে এনপিএস বা খাট প্রথম ধরা পড়ে ২০১৮ সালের ৩১ আগস্ট। ২০১৮ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি আইসের সন্ধান পাওয়া যায়। আর দেশে এলএসডির আবির্ভাব ঘটে ২০১৯ সালে। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এলএসডি সেবনের পর নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নিজের গলা নিজেই ধারালো অস্ত্র চালিয়ে মারা যাওয়ার পর এই মাদক আবারও আলোচনায় আসে। গত নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে আরও দুই ধরনের নতুন মাদকের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ডার্ক নেটে যোগাযোগ করে ভার্চুয়াল মুদ্রা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এই মাদকগুলো দেশে ঢুকছে। পরবর্তী সময়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিমানবন্দর পার করে চালানটি দেশে আনা হচ্ছে। জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ফজলুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, দেশে আন্তর্জাতিক তিনটি বিমানবন্দরের কোনোটিতেই ড্রাগ স্ক্যানার নেই। সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া তাঁদের পক্ষে অভিযান চালানোও কঠিন হয়ে যায়। তাই মাদক ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক ছোট আকৃতির এসব মাদক হরহামেশাই নিরাপত্তাচৌকি ফাঁকি দিয়ে দেশে ঢোকাতে পারেন। তিনি আরও বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ঘাটতি থাকায় সাইবার জগতেও সেভাবে নজরদারি করতে পারছেন না তাঁরা।

মাদকের ছোবল থেকে উত্তরণের উপায় কী—জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন, মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা প্রয়োজন। দেশজুড়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। এ কাজে পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

মহাসড়কে ডাকাতি, লক্ষ্য প্রবাসীরা

বিআরটি লেনে বেসরকারি বাস

হইহুল্লোড় থেমে গেল আর্তচিৎকারে

সন্দ্বীপ সুরক্ষা প্রকল্প: এক বছরেও শুরু হয়নি কাজ

ঢাকা সড়ক পরিবহন: প্রশ্নবিদ্ধ কমিটিতেই চলছে মালিক সমিতির কার্যক্রম

৪০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করবে টিসিবি

৮ বছরে শিশুহত্যা হয়েছে ৪০০০

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধির শীর্ষে বাংলাদেশ, তবে বাজারে পিছিয়ে

দেশে ব্যবসায় ঘুষ–দুর্নীতিসহ ১৭ রকমের বাধা

বিদ্যালয়ের জমিতে ৩৯১টি দোকান, ভাড়া নেয় কলেজ