Ajker Patrika

শ্বশুরের সঙ্গে হামাসের সংযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় অধ্যাপক গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৫, ০০: ১০
ভারতীয় শিক্ষাবিদ বদর খান সুরি। ছবি: বিবিসি
ভারতীয় শিক্ষাবিদ বদর খান সুরি। ছবি: বিবিসি

১৫ বছর আগে এক সহপাঠীর আমন্ত্রণ বদর খান সুরির জীবন পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মুখোমুখি। কারণ, তাঁর বিরুদ্ধে হামাসের এক সদস্যের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

১৫ বছর আগে ২০১০ সালের সেই সন্ধ্যায় ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বসে ছিলেন সুরি। এ সময়ই তাঁর এক সহপাঠী ঘোষণা করেন—একটি আন্তর্জাতিক ত্রাণ কাফেলা যাচ্ছে গাজায়। গাজা ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড, যা সশস্ত্র ইসলামি সংগঠন হামাস পরিচালনা করে। ইসরায়েল এই ভূখণ্ড অবরুদ্ধ করে রেখেছে।

‘যুদ্ধ ও সংঘাত’ বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী হিসেবে সুরির কাছে এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম বিতর্কিত সংঘাতকে খুব কাছ থেকে দেখার এক বিরল সুযোগ। তাঁর এক সহপাঠী বিবিসিকে জানিয়েছেন, সেদিন আনন্দের সঙ্গে ওই ত্রাণ কাফেলায় অংশগ্রহণে সম্মতি দিয়েছিলেন সুরি।

ওই সফরে গিয়েই মাফেজ সালেহ নামে এক ফিলিস্তিনি নারীর সঙ্গে পরিচিত হন সুরি। মাফেজ ছিলেন একজন সাবেক হামাস উপদেষ্টার কন্যা। পরিচয়ের কয়েক মাসের মধ্যেই সুরি ও মাফেজ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।

এরপর প্রায় এক দশক এই দম্পতি দিল্লিতে বসবাস করেন। পরে তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টোরাল ফেলো হিসেবে যোগ দেন সুরি। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রায় তিন বছর থাকার পর ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় তাঁর বাড়ির দরজায় টোকা দেয় পুলিশ। সুরিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এই গ্রেপ্তারের পর ২০ মার্চ মার্কিন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের সহকারী সচিব ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন একটি এক্স পোস্টে লিখেছেন, ‘একজন পরিচিত বা সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগে সুরিকে আটক করা হয়েছে।’

২০১৩ সালে দিল্লিতে মাফেজ সালেহ ও বদর খান সুরি। ছবি: বিবিসি
২০১৩ সালে দিল্লিতে মাফেজ সালেহ ও বদর খান সুরি। ছবি: বিবিসি

সুরি অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর গ্রেপ্তার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এসেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসন ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে। কারণ, তাঁদের বিরুদ্ধে ইহুদি বিরোধিতা ও হামাসকে সমর্থন করার অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র হামাসকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। যদিও ভারতে এখনো নিষিদ্ধ নয় সংগঠনটি।

সুরির ঘনিষ্ঠরা তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে অত্যন্ত দুর্বল বলে মনে করছেন। তাঁর এক শিক্ষক বলেন, ‘তার মতো একজন শান্তশিষ্ট ও পরিশ্রমী ছাত্রের সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা কল্পনাও করা যায় না।’

এই বিষয়ে একজন অধ্যাপক বলেছেন, ‘গাজার যুদ্ধ নিয়ে মতামত রাখা কোনো অপরাধ নয়। তিনি (সুরি) সংঘাত অধ্যয়নের একজন গবেষক। এটা তাঁর পেশাগত দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।’

এক সহকর্মী দাবি করেছেন, সুরি সব সময় ধর্মনিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করতেন। তাঁর মধ্যে কোনো উগ্রপন্থা ছিল না।

২০১০ সালের ডিসেম্বরে সেই কাফেলা দিল্লি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। পরে পাকিস্তান ভ্রমণের অনুমতি না দেওয়ায় তাঁরা ইরান, তুরস্ক, সিরিয়া ও মিসর হয়ে গাজায় পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে গাজার দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যথিত হন সুরি। তিনি সেখানকার বিধবা ও প্রবীণদের সহায়তায় মনোযোগ দেন।

সুরি দ্বিতীয়বার গাজায় গিয়েছিলেন বিয়ে করার জন্য। তাঁর স্ত্রী মাফেজ সালেহ তখন গাজায় দোভাষী ও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছিলেন। মাফেজের বাবা একসময় হামাসের প্রয়াত নেতা ইসমাইল হানিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন।

২০১০ সালে হামাস সরকার থেকে পদত্যাগ করেন মাফেজের বাবা। পরে তিনি ‘হাউস অব উইজডম’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন; যা গাজায় শান্তি ও সংঘাত নিরসনে কাজ করে।

ছেলেকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় সুরির বাবা বলেছেন, ‘সে হামাসের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নয়। তার একমাত্র অপরাধ হলো, সে একজন ফিলিস্তিনি নারীকে বিয়ে করেছে।’

তবে তিনি আশাবাদী, তাঁর ছেলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত হবে না। তিনি বলেন, ‘এগুলো শুধু অভিযোগ। এর পেছনে কোনো প্রমাণ নেই।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন ফেডারেল সংস্থার

‘মদের বোতল’ হাতে বৈষম্যবিরোধী নেতা-নেত্রীর ভিডিও, সদস্যপদ স্থগিত

ভারত নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে রিকশাচালকের সঙ্গে তর্ক, বাংলাদেশিকে ফেরত

আকরামদের প্রথম খবর দেওয়া হয়েছিল, তামিম আর নেই

১৫ লাখ টাকায় বিক্রি হলো এক পরিবারের সেই উমানাথপুর গ্রাম

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত