Ajker Patrika

সংকটেও ভারতে সোনা কেনার হিড়িক, কিন্তু কেন? 

তামান্না-ই-জাহান
আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২২, ১২: ৩০
সংকটেও ভারতে সোনা কেনার হিড়িক, কিন্তু কেন? 

মহামারি করোনা ভারতের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। দেশটির অর্থনীতির প্রায় সব খাত রেকর্ড পরিমাণ সংকুচিত হয়েছে। বেকার হয়ে পড়েছে লাখ লাখ মানুষ, টিকে থাকার জন্য চলছে প্রতিনিয়ত লড়াই। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো, ভয়াবহ এই সংকটের মধ্যেও ভারতীয়দের সোনা কেনার উৎসাহে এতটুকু ভাটা পড়েনি! বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে তা বেড়েছে। 

রাজধানী দিল্লির সোনার দোকানিরা জানান, লকডাউন শেষ হওয়ার পর থেকে তাঁদের বেচাবিক্রি বেড়ে গেছে। লকডাউনের কারণে কয়েক মাস ঘরবন্দী থাকার পর বিশেষ করে বিয়ে ও দিওয়ালি উৎসব উপলক্ষে সোনার দোকানে হুমড়ি খেয়ে পড়েন ক্রেতারা। 

স্বর্ণের সঙ্গে ভারতীয়দের ঐতিহ্যগত বিশেষ সম্পর্ক আছে। এ কারণেই দেশটিতে স্বর্ণের বাজার প্রসারিত হয়েছে। চীনের পর হলুদ ধাতুর জন্য বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার ভারত। 

বিয়েতে নববধূদের সোনার গয়না দেওয়ার রীতি অতি প্রাচীনভারতে বিশেষ করে বিয়েতে নববধূদের সোনার গয়না দেওয়ার রীতি অতি প্রাচীন। এ ছাড়া নির্দিষ্ট ধর্মীয় উৎসবে স্বর্ণ কেনাকে সে দেশে শুভ বলে মনে করা হয়। দিওয়ালির আগে ধনতেরস উৎসবে এক টুকরো সোনা কিনলেই লক্ষ্মী লাভ করা যায়—এমন বিশ্বাসের কারণে উৎসবকালে এই ধাতুর চাহিদা আরও বেড়ে যায়। চাহিদার বাড়বাড়ন্তে ভারতের বাজারে বেড়ে যায় স্বর্ণের দাম। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সোনার দোকানে ভিড় কমে না। 

সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘দুর্দিনের সহায়’ হিসেবেও দেশটিতে সোনার বেশ কদর রয়েছে। দিনদিন এই কদর বাড়ছে। গত দুই বছরে অনেক পরিবার অপ্রাতিষ্ঠানিক বাজারে স্বর্ণের অলংকার, বার ও কয়েন বিক্রি করে সংকটকালীন চাহিদা মিটিয়েছে। আবার অনেকে বিপদ সামাল দিতে স্বর্ণ গচ্ছিত রেখে ঋণ নিয়েছেন। স্থানীয় জরিপে দেখা গেছে, সোনার বিপরীতে ঋণ প্রদানকারী তিনটি বৃহত্তম আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ২০২০ সালে ৩২ শতাংশ, ২৫ শতাংশ ও ৬১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি লকডাউনের সময় যখন দেশটিতে দোকানপাট বন্ধ ছিল, তখনো মানুষ সোনা কেনাসহ এসংক্রান্ত অন্যান্য কাজে অনলাইন মাধ্যমকে বেছে নিয়েছিল। 

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্যমতে, করোনা মহামারি ও অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও ২০২১ সালে ভারতে সোনার চাহিদা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯৭ দশমিক ৩ টন, যার অর্থমূল্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮৬০ কোটি রুপি। আর এই হিসাবই প্রমাণ করে যে, ভারতীয়রা এখনো এই হলুদ ধাতুতে আস্থা রাখছেন। আগের বছর দেশটিতে সোনার চাহিদা ছিল ৪৪৬ দশমিক ৪ টন, যার অর্থমূল্য ১ লাখ ৮৮ হাজার ২৮০ কোটি রুপি। 

দিওয়ালির আগে ধনতেরস উৎসব ঘিরে সোনা কেনার ধুম। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট শুরুর আগে থেকেই ভারতে সোনার দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। গত কয়েক মাসে দেশটিতে কয়েক দফায় সোনার দাম বেড়েছে। বর্তমানে ভারতীয় বাজারে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (এমসিএক্স) ১০ গ্রাম সোনার দাম ৫১ হাজার ৬০০ রুপি। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর ভারতের বাজারে সোনার দাম গত কয়েক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, অচিরেই দেশটিতে ১০ গ্রাম সোনার দাম ৫২ হাজার রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে। দাম বেড়েছে রুপারও। ভারতের বাজারে এক কিলোগ্রাম রুপার দাম ১ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৩০০ রুপি। 

শুধু ভারতে নয়, বর্তমানে স্বর্ণের দাম আন্তর্জাতিক বাজারেও বাড়তি। রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটময় পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সুরক্ষিত বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দিকেই বেশি ঝুঁকছেন তাঁরা। বাজার বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত যত দিন থাকবে, তত দিন আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়তে থাকবে। 

সোনাকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে রক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইউক্রেনে হামলার জেরে রাশিয়ার ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা স্বর্ণের দামকে প্রভাবিত করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের জেরে সোনা-রুপার দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলমান সংকটের ওপর বিনিয়োগকারীদের নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

দিল্লিতে সোনার দোকানে ভিড়ভারতে সব মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্বর্ণের চাহিদা সব সময়ই প্রথমে। তাই দাম বাড়ুক বা কমুক, ক্রেতারা ঠিকই হাজির হন সোনার দোকানে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বৈশ্বিক করোনা মহামারি, অর্থনৈতিক সংকট কিংবা সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে সোনার দোকানে ক্রেতার ভিড় প্রমাণ করে যে, ভারতীয়দের সোনা কেনায় অনাগ্রহ হয়তো কখনোই হবে না! 

তথ্যসূত্র: দ্য ইকোনমিস্ট, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য ইকোনমিক টাইমস

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এখন টিভির ঘটনা সমঝোতার চেষ্টা করবেন তথ্যমন্ত্রী

ড. ইউনূস এখন কোথায় আছেন, নতুন প্রধানমন্ত্রী উঠবেন কোথায়?

২৬ ফেব্রুয়ারি বসতে পারে সংসদের প্রথম অধিবেশন, সভাপতিত্ব করবেন কে

বৈধ সুবিধাকে অস্বীকার করে জনগণের সামনে সাধু সাজা হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম

প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা হলেন আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত