Ajker Patrika

রিকশাচালকের মার খেয়ে থানায় গিয়ে ছাত্রদলের হামলার শিকার শিক্ষার্থীরা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হন ছাত্র প্রতিনিধিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ছবি: আজকের পত্রিকা
লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হন ছাত্র প্রতিনিধিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। ছবি: আজকের পত্রিকা

লক্ষ্মীপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে এক শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় বিচার চাইতে গিয়ে মারধরের শিকার হন ছাত্র প্রতিনিধিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আজ শনিবার বেলা ১টার দিকে সদর মডেল থানার ভেতরে ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম সৈকতসহ তাঁর লোকজন শিক্ষার্থীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে পৌর শহরের বাইশমারা এলাকায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে রিকশা ভাড়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ বাহারকে মারধর করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে রিকশাচালককে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র প্রতিনিধি ফারাবিসহ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেন।

পরে তাঁরা সদর মডেল থানার সামনের মূল ফটকে বিচারের জন্য এসে জড়ো হন। থানার ভেতরে তাঁদের সঙ্গে লক্ষ্মীপুর পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহিদুল ইসলাম সৈকত বাগ্‌বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সৈকতসহ তাঁর লোকজন শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। এতে ফারাবিসহ দুজন আহত হন। পরে হামলার ঘটনায় বিচারের দাবিতে থানা গেটে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তাঁরা।

এদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ, লক্ষ্মীপুর শহর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম ফরিদ উদ্দিন, জেলা ছাত্রদল নেতা রাজন হোসেন, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি সৌরভ হোসেন ও শহর শিবির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীসহ উভয় পক্ষকে সঠিক বিচার করার আশ্বাস দিয়ে শান্ত করেন।

পরে ঘটনাটি নিয়ে ওসির কক্ষে বৈঠকে বসেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং যুবদল-ছাত্রদল ও জামায়াত-শিবিরের নেতারা। এতে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সামনে রিকশা ভাড়া নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে শিক্ষার্থী হাবিবুল্লাহ বাহারকে মারধর করার ঘটনায় অভিযুক্ত রিকশাচালকের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত হয়। এ ছাড়া পলিটেকনিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের মধ্যে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়টি উভয় পক্ষের বৈঠকের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করার জন্য সবাই একমত হন। তবে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ইলমান ফারাবি বলেন, থানায় বিচার চাইতে এসে হামলার শিকার হতে হচ্ছে। এটি কোনোভাবে কাম্য হতে পারে না। তবে থানায় উভয় পক্ষের বেঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করার আশ্বাস দেওয়া হয়। যদি সঠিক বিচার না হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসনের নিকট দাবি জানান তাঁরা।

পৌর ছাত্রদলের নেতা জাহিদুল ইসলাম সৈকত বলেন, রিকশা ভাড়া নিয়ে পলিটেকনিকের সামনে এক ছাত্রের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাঁরা পৌর ১২ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি বিপ্লবকে দোষারোপ করেন। তাঁকে ধরে এনে মারধরের হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি জানতে থানায় এলে তাঁরা ক্ষুদ্ধ হয়ে তেড়ে আসেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

সদর থানার ওসি আব্দুল মোন্নাফ বলেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদল নেতার হাতাহাতির ঘটনায় দলের সিনিয়র নেতারা আগামীকাল রোববার বসবেন। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার জন্য বলা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত