Ajker Patrika

বড় পরিকল্পনায় উপেক্ষিত ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক পরিষেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বড় পরিকল্পনায় উপেক্ষিত ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক পরিষেবা

দেশের শহর ও নগরের বড় বড় পরিকল্পনায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে ওয়ার্ডভিত্তিক নাগরিক পরিষেবাগুলো উপেক্ষিত থাকে। এতে নাগরিকেরা প্রাপ্য নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়। ওয়ার্ড হচ্ছে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার প্রশাসনিক ইউনিট। ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা করলে এর সুফল সরাসরি নাগরিকেরা পাবে। 

আজ সোমবার বিশ্ব নগর-পরিকল্পনা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত 'ওয়ার্ড কেন্দ্রিক নগর-পরিকল্পনা' শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশ নেওয়া নগর পরিকল্পনাবিদেরা এসব কথা তুলে ধরেন। 

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাধারণ সম্পাদক ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শহর ও নগরে নাগরিক সেবা বাড়াতে ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা জরুরি। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন এরই মধ্যে ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। 

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের শহর পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম বলেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক একক হচ্ছে ওয়ার্ড। সিটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মশক নিধন, স্কুল, খেলার মাঠ, পার্কসহ অন্যান্য সুবিধা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বাস্তবায়ন করা গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো শহরে। তবে আয়তন ও জনসংখ্যা ভেদে ওয়ার্ডের পার্থক্য রয়েছে। এ জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে করতে হবে। 

বিআইপির চট্টগ্রাম শাখার সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ এ. টি. এম. শাহজাহান বলেন, ১৬৮ বর্গ কিলোমিটারের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৪১টি ওয়ার্ড রয়েছে। অপরিকল্পিত ভাবে নগরায়ণ হওয়ায় নাগরিকদের অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শহরের অনেক ম্যানহোলের ঢাকনা খোলা, যত্রতত্র বিদ্যুতের খুঁটি। এখানে কেউ একটু অসতর্ক ভাবে হাঁটলেই বিপদ। প্রতিবন্ধী, নারী ও শিশু সবার কথা ভেবে সুন্দর শহর গড়ার পরিকল্পনা আমাদের করতে হবে। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর পরিকল্পনাবিদ মাকসুদ হাসেম বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়তে হলে ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনার বিকল্প নেই। তাই ডিএনসিসির সঙ্গে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ড নিয়ে উন্নয়ন পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিগগিরই তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। 

বিআইপির সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, সিটি করপোরেশনের বড় পরিকল্পনা কখনো ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা ও সেবাসমূহ কাউন্সিলরের অফিসে দেখাতে হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারবে তার ওয়ার্ডে কী কী নাগরিক সেবা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবিষ্যতে কোন ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাও দেখাতে হবে। 

আলোচনায় আরও অংশ নেন বিআইপির যুগ্ম সম্পাদক পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ রাসেল কবির, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের শহর পরিকল্পনাবিদ বনি আহসান, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক এজেন্সি ইউএনএইচসিআর, কক্সবাজারের ন্যাশনাল সেটেলমেন্ট পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. সুলতান মাহমুদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের শহর পরিকল্পনাবিদ নজরুল ইসলাম, পটুয়াখালী পৌরসভার শহর পরিকল্পনাবিদ ফারজানা ইয়াসমিন, সিলেট সিটি করপোরেশনের শহর পরিকল্পনাবিদ তানভীর রহমান মোল্লা প্রমুখ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিলুপ্তের সিদ্ধান্ত হয়নি, নাহিদের মন্তব্যের জবাবে উমামা

জাতীয় নির্বাচন: ভোট কমিটির নেতৃত্বে ডিসি–ইউএনওকে না রাখার চিন্তা

আ.লীগ নেতার গ্রেপ্তার নিয়ে রাজশাহীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

খামেনিকে চিঠি দিয়ে যে প্রস্তাব দিলেন ট্রাম্প

ঢাবি ছাত্রীকে যৌন হেনস্তাকারী বাধ্যতামূলক ছুটিতে, মামলা এখন আদালতের এখতিয়ারে

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত