
মামলা আলাদা আলাদা না করে একসঙ্গে করার পরামর্শ দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, ‘বিচার করতে গেলে ডকুমেন্টস লাগবে। আমাদের কাছে কেমন ডকুমেন্টস আছে, তা দেখতে হবে। পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস আছে কি না, না থাকলে সংগ্রহ করতে হবে। মামলা আলাদা আলাদা না করে একসঙ্গে করলে শক্তিশালী হবে। কোনো ধরনের বিতর্ক রাখা যাবে না।’
আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে নলিনীকান্ত ভট্টাশালী প্রদর্শনী গ্যালারিতে মায়ের ডাক আয়োজিত ‘জোরপূর্বক গুম-খুনের বিচার প্রক্রিয়া সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। গবেষক ও মানবাধিকারকর্মী রেজাউর রহমান লেনিনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী ও সংগঠক সি আর আবরার, শিরীন হক ও মুস্তাইন জহির।
শিশির মনির বলেন, ‘আমরা অনেক কান্না করেছি, চোখের পানি শেষ হয়ে গেছে। আর কত কান্না করব? এখন বিচার করার সময়।’
শিশির মনির আরও বলেন, ‘আমাদের এ বিচার করতে গেলে দুভাবে করা যাবে। এক হলো—আমাদের অপরাধ ট্রাইব্যুনালে, সেটা করতে গেলে সংশোধন করতে হবে। কারণ, গুমের ধারা এখানে নেই। গুমের ধারা এখানে যুক্ত করতে হবে। অথবা আন্তর্জাতিকভাবে এর বিচার করতে হবে।’
এভিডেন্স কালেকশন ইজ এ আর্ট উল্লেখ করে শিশির মনির বলেন, ‘কালেকশন অব এভিডেন্স একটা শিল্প। এ শিল্পের দায়িত্ব পালন করার কথা ইনভেস্টিগেশন অফিসারের, ইনভেস্টিগেশন অফিসাররা এত ইফেশিয়েন্সি কাজ করেন না। যার কারণে তাঁরা এভিডেন্সগুলো যথাযথভাবে সংগ্রহ করতে পারেন না। না করতে পেরে তাঁরা আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে মারধর করেন, নির্যাতন করেন। এগুলো কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে এক্সেপ্টেবল হবে না। উই মাস্ট মেইনটেন ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড।’
সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ‘আমি ট্রাইব্যুনাল সংশোধন করার কথা বলেছি, লিখিতভাবে দিয়ে আসছি। বলেছি, আন্তর্জাতিক ল ইয়ারদের এখানে আসতে দিন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল বোর্ডের ল ইয়ার যারা, তাদের রাষ্ট্র আনতে চাইলে আনুক, ক্রিমিনাল আনতে চায় আনুক, আসামি আনতে চাইলে আনুক। আসামির অধিকারও আমাদের দিতে হবে।’
সি আর আবরার বলেন, ‘১০-১২ বছর ধরে কথাগুলো মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছি। অনেকে এখন আর আসে না। যাঁদের স্বজন গুম হয়েছেন, তাঁরাও মারা গেছেন অনেকে। এখন অনেকে জানতে চান, তাঁর বাবা বেঁচে আছে কি না। অনেক স্ত্রী জানতে চায়, সে সধবা নাকি বিধবা। অনেকের পরিবারকে বলা হয়েছিল নেওয়ার সময়, কাল থানায় গিয়ে নিয়ে আসা যাবে। যাচাই করে অপরাধী না হলে ছেড়ে দেওয়া হবে। থানায় গেলে অস্বীকার করা হয়েছে। আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই। এগুলোর বিচার করতে হবে।’
শিরীন হক বলেন, ‘আপনারা (গুম হওয়াদের স্বজন) লেগে আছেন বলেই আমরা থাকতে পেরেছি। আপনাদের জন্য কতটুকু কাজ করতে পেরেছি, জানি না। ২০১৪ সালে প্রেসক্লাবে প্রথম প্রোগ্রামে শাহদীন মালিক বলেছিলেন, ‘সমষ্টিগতভাবে মামলা দিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে এর বিচার করতে হবে। আমরা তখন কল্পনা করতে পারিনি। তখন থেকে মায়ের ডাক হাল ছাড়েনি, মায়ের ডাক হাল ছাড়বে না। আমরা তাদের (প্রশাসন) কাছে গিয়ে দালিলিক প্রমাণ চেয়েছি। তারা বলেছে, আন্দোলনের সময় থানায় আক্রমণ করার কারণে ডকুমেন্টস হারিয়ে গেছে। এখনো সেই দলিলগুলো লুকিয়ে ফেলা হয়েছে কি না সন্দেহ তৈরি হচ্ছে, ভীতি তৈরি হচ্ছে। বিচার করে আমরা নতুন ইতিহাস তৈরি করতে পারব।’
মুস্তাইন জহির বলেন, ‘আমাদের মধ্যে যারা গুম হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কতজন বেঁচে আছেন, ভিন্ন দেশের কারাগারে আছেন, তা আমরা জানি না। সালাহউদ্দিন সাহেব (বিএনপি নেতা) এসেছেন, তিনি সত্যটা জাতির সামনে তুলে ধরবেন বলে বিশ্বাস। না হয় আমাদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা ম্লান হয়ে যাবে। ডিজিএফআইয়ের ওখান থেকে, আয়নাঘর থেকে যারা বেঁচে ফিরে আসছেন, তাঁদের প্রধানকে তো আমরা চিনি। তাকে বিচারের আওতায় এনে পুরো লেয়ারটা ধরতে হবে। শুধু বিচার করলে হবে না, পুরো সিস্টেমকে উপড়ে ফেলতে হবে।’
আলোচনা সভায় গুম হওয়াদের স্বজনেরা ছবি নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি গ্যালারিতে গুম হওয়াদের নিয়ে বিভিন্ন ছবিরও প্রদর্শনী চলছে।

আপনাদের দেখার দরকার নেই—কে বিএনপি, কে আওয়ামী লীগ, কে জামায়াত করে। কেউ যদি দোষী হয় তাকে আইনের আওতায় আনুন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। গত ১৭ বছরে দেশে যা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে চাই না।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর বেইলি রোডে ঝলমলে আলোকসজ্জার দোকান আর বিলাসী ইফতার আয়োজনে ব্যস্ত বিক্রেতা। ক্রেতার ভিড়ও বেশ। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে জমে উঠেছে এখানকার ইফতার বাজার। প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে নানান পদের ইফতারসামগ্রীর দেখা মিলেছে।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর মগবাজার ও জুরাইন এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেলে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমানের উত্তরার বাসায় এক শিশু গৃহকর্মীকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ওই বাসারই আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি...
২ ঘণ্টা আগে