Ajker Patrika

আনিসুলের বান্ধবী তৌফিকা ও উ শৈ পরিবারের পাঁচ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

অনলাইন ডেস্ক
আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৯: ১১
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বান্ধবী অ্যাডভোকেট মিসেস তৌফিকা আফতাব ওরফে তৌফিকা করিম ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উ শৈ সিংসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ ও সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. জাকির হোসেন পৃথকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিশেষ পিপি মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দুদকের পৃথক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই নির্দেশনা দেন।

দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞায় রয়েছেন— সাবকে সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর উ শৈ সিংয়ের স্ত্রী মে হ্লা প্রু এবং তিন সন্তান উসিং হাই, থোওয়াই শৈ ওয়াং ও ম্যা ম্যা খিং ভেনাস।

তৌফিকা করিমের দেশ থেকে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন দুদকের উপপরিচালক মোছাম্মৎ মাহফুজা খাতুন। অন্যদিকে বীর বাহাদুরের পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন দুদকের সরকারি পরিচালক মো. আব্দুল মালেক।

তৌফিকার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

তৌফিকা করিমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও মিসেস তৌফিকা করিমসহ অন্যান্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অকল্পনীয় অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানাধীন রয়েছে। তৌফিকা করিম সাবেক মন্ত্রী আনিসুল হকের আস্থাভাজন হিসেবে আইন মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন বিচারিক আদালতে নিয়োগ, বদলি ও জামিনসহ বিভিন্ন অবৈধ বাণিজ্য ও দুর্নীতির মাধ্যমে নিজ এবং অন্যান্য নামে বিপুল পরিমাণগত আই বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। এই অবৈধ সম্পদের মাধ্যমে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকায় একটি বিলাসবহুল বাড়ির মালিকানা অর্জন করেছেন। ইউনাইটেড ব্যাংক ও সিটিজেনস ব্যাংক পিএলসিতে নিজ নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন মর্মে তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধানাধীন টিম গোপন সূত্রে জানতে পেরেছে- তৌফিকা করিম যে কোনো সময় পালিয়ে বিদেশ চলে যেতে পারেন। তিনি বিদেশ পালিয়ে গেলে অনুসন্ধান কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে অথবা দীর্ঘায়িত হতে পারে। এ কারণে তাঁর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিচারালয়ের অঘোষিত ‘নিয়ন্ত্রক’ ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিম। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সংস্পর্শে থেকে এ অসাধ্য সাধ্য করেছিলেন তিনি। উচ্চ আদালত থেকে নিম্ন আদালত সবখানেই তাঁর বিচরণ ছিল বলে জানা যায়। এ ছাড়া গড়ে তুলেছিলেন বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণের নিজস্ব সিন্ডিকেট। গুরুত্বপূর্ণ মামলায় প্রভাব খাঁটিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো রায় ও জামিন করিয়েছেন অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার দুর্ধর্ষ আসামিদের।

অ্যাডভোকেট তৌফিকা করিম একাধারে একজন আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও ব্যাংকার। আইন অঙ্গনে পরিচিত সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে। অনেকে আনিসুল হকের বান্ধবী হিসেবে তৌফিকা করিমকে চেনেন।

বীর বাহাদুরের পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

এই পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আবেদনে বলা হয়, সাবেক সংসদ সদস্য বীর বাহাদুর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। অভিযোগ দুদক অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দুদকের অনুসন্ধান টিম গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছে বীর বাহাদুর তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে যে কোনো সময় দেশ থেকে পালিয়ে যেতে পারেন। তাঁরা পালিয়ে গেলে দুর্নীতির অনুসন্ধান কাজ ব্যাহত হবে ও দীর্ঘায়িত হবে। কাজেই তাঁদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়া আবশ্যক।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত