
যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঈদের পর রোগীর ভিড় বেড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালের বহির্বিভাগে রোগীর লাইন থাকলেও চিকিৎসকদের কক্ষগুলো ফাঁকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসে চিকিৎসকেরা অনুপস্থিত থাকায় এনসিডি কর্নারে একজন কার্ডিওগ্রাফারকে রোগী দেখতে দেখা গেছে। এ সময় হাসপাতালে পাওয়া যায়নি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে। এ সময় চিকিৎসক না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে বিরক্তি প্রকাশ করেন রোগীরা।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, এনসিডি কর্নারের সামনে টিকিট হাতে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন কয়েকজন রোগী। ভেতরে দরজা বন্ধ করে রোগী দেখছেন কার্ডিওগ্রাফার মোস্তাফিজুর রহমান। জানতে চাইলে তিনি নিজেকে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (সেকমো) পরিচয় দেন। তিনি বলেন, ‘সকাল ৯টার সময় এসেছি। এখন পর্যন্ত ৬০-৭০ জন রোগী দেখেছি। বাইরে আরও রোগী আছে।’
এনসিডি কর্নারে মূলত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা ও বিনা মূল্যে ওষুধ দেওয়া হয়। কার্ডিওগ্রাফারের কাজ হচ্ছে মূলত রোগীর ইসিজি করা। মনিরামপুর হাসপাতালে দীর্ঘদিন কার্ডিওগ্রাফারের পদ খালি থাকায় কয়েক দিন আগে মোস্তাফিজুর রহমানকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এনসিডি কর্নারে তিনি চিকিৎসকের সহকারী হিসেবে রোগীর নাম নিবন্ধন করার কাজ করে থাকেন। গতকাল হাসপাতালে চিকিৎসক না আসায় তিনি নিজে চিকিৎসক সেজে রোগীর ব্যবস্থাপত্র লিখেছেন।
হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, নতুন ভবনের দোতলায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুমন কবির, গাইনি বিশেষজ্ঞ দিলরুবা খাতুন ডায়না, চিকিৎসক অনুপ বসু, হোমিও চিকিৎসক মনিরুজ্জামান ও ইউনানি চিকিৎসক রুহুল আমিন রোগী দেখেন; কিন্তু তাঁদের কেউ কক্ষে নেই। বাইরে থেকে কক্ষে তালাবদ্ধ। এই ভবনের নিচতলায় ১১৬ নম্বর কক্ষে দুজন চিকিৎসকের চেয়ার ফাঁকা পড়ে রয়েছে। শিশু ওয়ার্ডে ১২৫ নম্বর কক্ষের সামনে কয়েকজন মাকে সন্তান কোলে নিয়ে বাইরে অপেক্ষায় বসে থাকলে দেখা গেলেও ভেতরে নেই কোনো চিকিৎসক। এ সময় শুধু বহির্বিভাগে ১২৬ নম্বর কক্ষে চিকিৎসক রাফেজা খাতুনকে রোগীদের সেবা দিতে দেখা গেছে।
এদিকে হাসপাতালে সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে ১১৬ নম্বর কক্ষে আসেন চিকিৎসক নাহিদ হাসান। আর ১২৫ নম্বর কক্ষে রোগী দেখা শুরু করেন সেকমো আনিছুর রহমান। পরে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ফরিদুল ইসলামকে রোগী দেখতে দেখা যায়।
জানতে চাইলে মহাদেবপুর গ্রামের তিন মাসের শিশু ওবায়দা খাতুনের মা জাহিনুর খাতুন বলেন, ‘বাচ্চার জ্বর ও ঠান্ডা সমস্যা নিয়ে সকাল ১০টার দিকে হাসপাতালে এসেছি। দেড় ঘণ্টা ধরে শিশু ওয়ার্ডের সামনে বসে আছি। ডাক্তারের দেখা পাইনি।’ একই কথা বলেছেন মোহনপুর গ্রামের তিন বছরের শিশু আলভি হাসান ও বিজয়রামপুর গ্রামের এক বছরের শিশু আবু হুরায়রার স্বজনেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ও আবাসিক মেডিকেল অফিসারের পাশাপাশি পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সাতজন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। এ ছাড়া রয়েছেন একজন ইউনানি ও একজন হোমিও চিকিৎসক।
একটি সূত্রের দাবি, জেলার অন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তুলনায় মনিরামপুরে চিকিৎসকের সংখ্যা বেশি। কিন্তু এখানকার চিকিৎসকেরা সময়মতো হাসপাতালে ডিউটি না করে উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের (সেকমো) দিয়ে বহির্বিভাগে রোগী দেখান।
জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার হুমায়ুন রশিদ বলেন, ‘আমার রাতে ডিউটি ছিল। চিকিৎসক কম থাকায় আজ (বৃহস্পতিবার) জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে তিনজন চিকিৎসক রোগী দেখেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বিষয়টি হাসপাতালের প্রধান দেখেন। তাঁরা আজ কেন আসেননি তা স্যার বলতে পারবেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমদ ফয়সাল বলেন, ‘ঈদের পর বুধবার থেকে সীমিত পরিসরে হাসপাতাল খুলেছে। অসুস্থ থাকায় আমি আজ দুদিন আসতে পারিনি। মেডিসিন বিশেষজ্ঞ সুমন কবির ও শিশু বিশেষজ্ঞ জেসমিন সুমাইয়া আজ আসার কথা ছিল। কেন আসেননি খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।’
যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘কার্ডিওগ্রাফারের রোগী দেখার কথা নয়। মনিরামপুর হাসপাতালে কেন এমন হলো, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় ছিনতাইকারী সন্দেহে গণপিটুনিতে নিহত দুজনের পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন—পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের সাঁতারপাড়া গ্রামের মৃত লাল মিয়া শেখের ছেলে লেবু মিয়া ওরফে ভন্ডল (২৪) এবং একই ইউনিয়নের মস্তাপুর গ্রামের মৃত দানোজ মিয়ার ছেলে মঈনুল ইসলাম (৫০)।
১২ মিনিট আগে
আগামী মার্চে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে ফাঁদে আটকে অসুস্থ হয়ে পড়া সেই বাঘিনীকে। খুলনার রেসকিউ সেন্টারে ৪৫ দিন চিকিৎসায় বাঘিনীটি এখন অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছে।
২৩ মিনিট আগে
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই বন্ধু নিহত হয়েছেন। বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে আজ শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পৌর শহরের দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের টিঅ্যান্ডটি মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকেরা হলেন সজীব হাসান (২৫) ও ইজহারুল ইসলাম (২৫)।
২৮ মিনিট আগে
ইউএনও মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যমুনার চরে আটক ব্যক্তিরা আটটি ঘোড়া জবাই করেন। এতে ১১ বস্তা মাংস হয়, যার ওজন প্রায় ৪০০ কেজি। তাঁরা এই মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে ঢাকায় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়।
২ ঘণ্টা আগে