Ajker Patrika

ঝিনাইদহে বাঁওড়ে হামলা, মাছের খাবারের গুদাম ও নৌকায় আগুন

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি 
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাঁওড়ে হামলা চালিয়ে ইজারাদারের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বাঁওড়ে হামলা চালিয়ে ইজারাদারের কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে ইজারাবঞ্চিত মৎস্যজীবীরা বাঁওড়ে হামলা চালিয়ে বর্তমান ইজারাদারের কার্যালয়, মাছের খাবারের গুদাম ও নৌকা পুড়িয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার জয়দিয়া বাঁওড়ে এ হামলা চালানো হয়। এতে গুরুতর আহত হয়েছেন ইজারাদার রঞ্জিত হালদার। তিনি বর্তমানে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

রঞ্জিত জানান, তিনি ২০২৩ সালে ছয় বছরের জন্য জয়দিয়া বাঁওড় ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। এতে ইজারাবঞ্চিত একটি পক্ষ তাঁকে হুমকি দেওয়াসহ বাঁওড় পেতে আন্দোলন-বিক্ষোভ করে আসছিল। আজ সকাল ১০টা দিকে তিনি প্রতিদিনের মতো বাঁওড়ের অফিস কক্ষে বসেছিলেন। হঠাৎ স্থানীয় আমিনুল মোল্লা, আলম হোসেন ও নিত্য হালদারের নেতৃত্বে কয়েক শ মানুষ অফিস কক্ষের দিকে আসেন। তাঁরা কোনো কথা না বলেই রঞ্জিতকে মারধর শুরু করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

রঞ্জিত বলেন, ‘ওই সময় বিক্ষোভকারীরা আমার অফিস, খাবার রাখার গোডাউন ও মাছ ধরার আটটি নৌকায় আগুন দিয়েছেন। যা সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে করে ৮১ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’

এ ঘটনায় রঞ্জিত ১৭ জনের নাম উল্লেখ ও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে কোটচাঁদপুর থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

এ নিয়ে কথা হলে জয়দিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি শীতল হালদার বলেন, ‘যশোর অঞ্চলের ছয়টি বাঁওড়ের ইজারা বাতিলের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে বাঁওড় পাড়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। এ সময় ইজারাদারের লোকজন বাধা দেন। এতে করে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা ঘটে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ওই ঘটনা ঘটাতে পারে।’

আমিনুল মোল্লা বলেন, ‘গতকাল সোমবার বাঁওড়ে একটি নৌকাবাইচ ছিল। তাঁদের (রঞ্জিত) কাছে নৌকা চাওয়া হয়েছিল। তাঁরা আমাদের কোনো সহায়তা করেন নাই। আর আমি জানতে পারলাম, হালদাররা (শীতল) বাঁওড়ে নামতেই পারেন না। সে কারণে আমার তাঁদের ওপর রাগ হয়ে গেল। সেই রাগ থেকে আজ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতে গিয়েছিলাম। এরপর ইজারাদারের পক্ষে স্থানীয় লিটন নামের একজন বাধা দেন। শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে আমি কাউকে মারিনি। আমি তাঁদের ধরতে বলেছিলাম।’

আমিনুল মোল্লা জানান, আজ হোক আর কাল হোক, বাঁওড় তিনি মৎস্যজীবীদের হাতে ফিরিয়ে দেবেন।

যোগাযোগ করা হলে কোটচাঁদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বাঁওড়ের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। একটা অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ইজারাদার। তদন্ত করতে এসে দেখি এজাহারের সঙ্গে কোনো মিল না। তাঁরা লিখেছেন ৮১ লাখ টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে বাস্তবে তেমনটা না। আর বাঁওড় নিয়ে হালদারদের মধ্যে দুই গ্রুপ আছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত বলা সম্ভব হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত