Ajker Patrika

মাঠে হাসি, হাটে কান্না আগাম আলুচাষিদের

  • গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি আলুর দাম অর্ধেকের বেশি কমে গেছে।
  • আগাম জাতের আলু সংরক্ষণের কোনো সুযোগ নেই।
  • বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন আলুচাষিরা।
তাজরুল ইসলাম, পীরগাছা (রংপুর)
পীরগাছার শিবদের চর গ্রামে আলু তুলছেন শ্রমিকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা
পীরগাছার শিবদের চর গ্রামে আলু তুলছেন শ্রমিকেরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রংপুরের পীরগাছায় আলুর বাম্পার ফলন হলেও হাসি নেই চাষিদের মুখে। বাজারে দাম না থাকায় আগাম আলু নিয়ে মহাবিপাকে পড়েছেন তাঁরা। উৎপাদন খরচ উঠছে না কৃষকদের। গত বছরের তুলনায় কেজিপ্রতি দাম অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। ফলে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন আলুচাষিরা।

গতকাল সোমবার পীরগাছা উপজেলার বেশ কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১৩ হাজার ২০০ হেক্টরে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করা হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, এ বছর ২০ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে আলু চাষ করা হয়েছে, যা বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড পরিমাণ। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার হেক্টরে আগাম জাতের আলু চাষ করা হয়।

বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর আলুর আকাশচুম্বী দাম থাকায় লোভে পড়ে এ বছর বেশি পরিমাণে চাষ করা হয়। প্রতি কেজি আলুর বীজ ১১০-১২০ টাকা দরে কিনে রোপণ করেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আগাম জাতের আলু উত্তোলন করে কৃষকেরা এখন অন্য ফসল রোপণ করবেন। এদিকে কোল্ডস্টোরেজগুলো এখনো খোলা হয়নি। ফলে উভয়সংকটে পড়ে কৃষকেরা এখন পানির দামে আলু বিক্রি করছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি ইস্ট্রিক জাতের আলু ১০, সেভেন জাতের ৭-৮, লাল পাকরি জাতের ১২-১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গত বছর ইস্ট্রিক জাতের আলু ছিল ২৫-২৭, সেভেন জাতের ২২-২৫ এবং লাল পাকরি জাতের ৩০-৩৫ টাকা কেজি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চরাঞ্চল ও বিভিন্ন ইউনিয়নে উঁচু জমিগুলোতে আগাম জাতের আলু বেশি চাষ করা হয়েছে।

ছাওলা ইউনিয়নের শিবদেব চর গ্রামের আলুচাষি জয়নাল মিয়া বলেন, ‘গত বছর দাম অনেক বেশি ছিল। তাই ধারদেনা করে ১১০ টাকা কেজি দরে বীজ কিনে আগাম আলু চাষ করেছি। এখন দেখি বাজারে দাম নেই। কোল্ডস্টোরেজও বন্ধ।’

নয়ারহাট এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক মিয়া বলেন, ‘আগাম আলু সংরক্ষণ ও বাইরে রপ্তানির কোনো সুযোগ না থাকায় আমরা দাম পাচ্ছি না।’

পীরগাছা বাজারের আলু ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত বছরে তুলনায় বেশি পরিমাণে আলু চাষ এবং উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে দাম নেই।

পীরগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বছর পীরগাছায় রেকর্ড পরিমাণ আলু চাষ হয়েছে। ফলনও ভালো। তবে আগাম জাতের আলু সংরক্ষণের কোনো সুযোগ নেই। আর বোরো চাষাবাদের জন্য কৃষকেরা আলু উত্তোলন করছেন। আলু সংরক্ষণ করে রাখা হলে পরে দাম বাড়তে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পরিবারের সামনে পুলিশ কর্মকর্তা লাঞ্ছিত, স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩ নেতা-কর্মী আটক

নয়াদিল্লি হাসিনা আমলের দৃষ্টিভঙ্গিই ধরে রেখেছে: ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বিমসটেক সম্মেলনে ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদি বৈঠক হচ্ছে

গ্রেপ্তার আসামিকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা, বিএনপির ১৭ নেতা-কর্মী আটক

তখন অন্য একটা সংগঠন করতাম, এখন বলতে লজ্জা হয়: জামায়াতের আমির

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত