
গাইবান্ধায় মাঠের পর মাঠ আমন ধানের সবুজ সমারোহ। জেলার অনেক এলাকায় আমন ধানের শিষ উঁকি দিয়ে বের হতে শুরু করেছে। কিন্তু এর মধ্যেই ধানখেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৫ হেক্টর জমিতে আমনের চাষ হয়েছে। যেসব এলাকার জমি নিচু, সেখানে ইঁদুরের আক্রমণ বেশি হচ্ছে। ইদানীং বৃষ্টি হওয়ায় ইঁদুরের উপদ্রব তুলনামূলকভাবে বেড়ে গেছে।
বিভিন্ন উপজেলার আমন ধানের খেত ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা ইঁদুরের উপদ্রব থেকে ধান রক্ষা করতে খেতের মধ্যে বাঁশের কঞ্চি গেড়ে এতে পলিথিন টাঙিয়ে দিয়েছেন। অনেকে আবার খেতের চারপাশে ইঁদুর মারার ফাঁদ তৈরি করে রেখেছেন। তবুও কোনো কাজে আসছে না। খেতে ইঁদুরের হানা দেওয়া ধানের গাছ দেখে মনে হবে কেউ কাঁচি দিয়ে কেটে রেখেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জীবন-জীবিকার জন্য জেলা অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এ জেলার শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্য অন্যতম ফসল হচ্ছে ধান। কৃষকেরা ধান ঘরে তুলে তাঁদের মৌলিক চাহিদা পূরণের চেষ্টা করেন। রোপা ইরি ধানের তুলনায় কম খরচে লাভজনক ফসল হচ্ছে আমন ধান। জলবায়ু পরিবর্তনে খরা আর বন্যাসহ নানা প্রতিকূল পেরিয়ে ঘরে ধান তুলতে বুকভরা আশা বেঁধে ছিলেন কৃষকেরা।
কিন্তু বিধিবাম! বেশ কিছু মাঠে পোকামাকড়ের আক্রমণসহ পাতা ব্লাস্ট বা খোলপচা রোগ দেখা দেয়। এ থেকে রেহাই পেতে না পেতেই দেখা দিয়েছে ইঁদুরের উপদ্রব। ধানগাছ কেটে সাবাড় করছে ইঁদুরের দল। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ধানখেত নষ্ট হওয়া মাথায় হাত পড়েছে কৃষকের।
কৃষকদের দাবি, ফসলহানি হওয়ার সময় মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সঠিক পরামর্শ পান না তাঁরা। অনেক এলাকায় কৃষি উপসহকারীদের বছরের পর বছর দেখাই মেলে না। অনেক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, গ্রামের কিছু রাজনৈতিক ও যাঁদের জমির পরিমাণ বেশি—তাঁদের খুব সহজেই পরামর্শ দেন। অন্য কৃষকদের ফসলের পরামর্শের জন্য উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেখা মেলে ভাগ্যের ব্যাপার।
সাদুল্লাপুর উপজেলার কৃষক জাকিরুল ইসলাম বলেন, চলতি রোপা আমন মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। এ থেকে ভালো ফলন ঘরে তোলার স্বপ্ন বুনছিলেন। কিন্তু ইঁদুরের আক্রমণে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে তাঁর। আরেক কৃষক আশাদুল ইসলাম বলেন, ইঁদুরের কবল থেকে রক্ষায় বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাচ্ছেন না তিনি। বাধ্য হয়ে বাঁশের ডোঙ্গার ফাঁদ দিয়ে ইঁদুর নিধনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তানজিমুল হাসান বলেন, খুব বেশি পরিমাণ খেতে ইঁদুরের আক্রমণ নেই। কিছু কিছু খেতে সামান্য আক্রমণ করেছে। এসব ইঁদুর নিধনে বিষ টোপসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
জেলা গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কৃষক আফজল হোসেন বলেন, তিনি এবার ১০ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছেন। এখন ধানের শিষ বের হচ্ছে। এ অবস্থায় খেতে ইঁদুরের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। ওষুধ ছিটিয়ে কোনো লাভ হচ্ছে না।
তিনি বলেন, খেতের মধ্যে পলিথিন বেঁধে দিয়েছেন। বাতাসে কাগজ উড়ার শব্দে ইঁদুর পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরেক কৃষক ইয়াসিন মিয়া বলেন, ‘নানা কৌশল অবলম্বন করেও ইঁদুরের হাত থেকে রোপা আমন রক্ষা করা যাচ্ছে না। এখন ফলন নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খোরশেদ আলম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘রোপা আমনখেতে ইঁদুর তাড়ানোর জন্য কীটনাশক প্রয়োগসহ বিভিন্ন পদ্ধতি নিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্য এর সমাধান হয়ে যাবে।’

আপনাদের দেখার দরকার নেই—কে বিএনপি, কে আওয়ামী লীগ, কে জামায়াত করে। কেউ যদি দোষী হয় তাকে আইনের আওতায় আনুন, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। গত ১৭ বছরে দেশে যা হয়েছে তার পুনরাবৃত্তি আমরা দেখতে চাই না।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর বেইলি রোডে ঝলমলে আলোকসজ্জার দোকান আর বিলাসী ইফতার আয়োজনে ব্যস্ত বিক্রেতা। ক্রেতার ভিড়ও বেশ। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে জমে উঠেছে এখানকার ইফতার বাজার। প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্টে নানান পদের ইফতারসামগ্রীর দেখা মিলেছে।
১ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর মগবাজার ও জুরাইন এলাকা থেকে অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার বিকেলে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমানের উত্তরার বাসায় এক শিশু গৃহকর্মীকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন ওই বাসারই আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম। তবে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নির্যাতনের কথা স্বীকার করলেও আদালতে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি...
২ ঘণ্টা আগে