Ajker Patrika

সরকারি পুকুর ইজারায় কোটি টাকার বাণিজ্য

আনোয়ার হোসেন শামীম, গাইবান্ধা 
আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৫, ১০: ৫২
সরকারি পুকুর ইজারায় কোটি টাকার বাণিজ্য

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সরকারি পুকুর ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ উপেক্ষা করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পানির দরে পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে পুকুর ইজারায় জালিয়াতির আশ্রয়ও নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর প্রকৃত জেলেদের বাদ দিয়ে অনিয়ম করে মৎস্য সমবায় সমিতি গঠন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস থেকে সম্প্রতি ১২৮টি পুকুর ইজারা দেওয়া দরপত্র আহ্বান করে। পরে মামলায় জটিলতা থাকা ২৪টি ইজারা স্থগিত করে ৮৯টি পুকুর ইজারা দেওয়া হয়। জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি উৎকোচ নিয়ে গোপনে ভুয়া ১৭টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির মধ্যে ১৩টি সমিতির নামে ১৬টি পুকুর ইজারা দিয়েছেন। এ ছাড়া ১৭টি পুকুর ইজারায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কাগজপত্র জালিয়াতিসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে ৮৯টি পুকুর ইজারা দিয়েছেন জলমহাল কমিটি। এতে অন্তত কোটি টাকা বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে জলমহাল কমিটির বিরুদ্ধে। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি। ছয় সদস্যবিশিষ্ট জলমহাল ইজারা কমিটির আহ্বায়ক ইউএনও, সদস্যসচিব এসিল্যান্ড, সদস্য উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, সমাজসেবা ও মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা।

অনিয়ম করে মৎস্য সমবায় সমিতি করে জলমহাল ইজারা দেওয়ার অভিযোগ এনে ছোপনাল, সাজা মিয়া ও রবাত আলী নামের কয়েকজন জেলে গত ১৮ মার্চ রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন।

পূর্ব দইহারা মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি মো. শাহিন মিয়া বলেন, ‘বর্তমানে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় যে সব মৎস্য সমবায় সমিতিকে পুকুর লিজ দেওয়া হয়েছে, সে সব সমিতি অবৈধ।’ এ দিকে অভিযোগ উঠেছে, তিন একরের বেশি আয়তনের পুকুর ইজারা দেওয়া হয় ৫০-৫৫ হাজার টাকায়। হাতবদলে ওই পুকুর ইজারা হয় ৭-৮ লাখ টাকায়।

সহকারী ভূমি কমিশনার (এসি ল্যান্ড) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সব বিধিবিধান মেনে পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে। ভুয়া সমিতিকে পুকুর ইজারা দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রত্যয়নের ভিত্তিতে এসব পুকুর ইজারা দেওয়া হয়েছে।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের বলেন, ‘উপজেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক আমাকে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, তিনি সেভাবেই কাজ করেছেন। কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে সে দায়ভার আমার নয়।’

এ দিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে ডিসির কাছে অভিযোগ করতে বলেছেন।

জেলা প্রশাসক (ডিসি) চৌধুরী মোয়াজ্জম আহমদ বলেন, ‘ইউএনও এমন কাজ করতে পারেন না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন ফেডারেল সংস্থার

‘মদের বোতল’ হাতে বৈষম্যবিরোধী নেতা-নেত্রীর ভিডিও, সদস্যপদ স্থগিত

আকরামদের প্রথম খবর দেওয়া হয়েছিল, তামিম আর নেই

১৫ লাখ টাকায় বিক্রি হলো এক পরিবারের সেই উমানাথপুর গ্রাম

ভারতকে ভয়ংকর মাদক ফেন্টানিলের কাঁচামাল সরবরাহকারী বলল তুলসী গ্যাবার্ডের দপ্তর

এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত